সফলতার গল্প সবজি চাষে

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

সফলতার গল্প সবজি চাষে

শাহাদৎ হোসেন মিশুক, গাইবান্ধা ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

print
সফলতার গল্প সবজি চাষে

১৯৮৭ সাল। পল্লী চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে নেন সাইদুর রহমান। প্রতিদিনের উপার্জনের কিছু অর্থ জমিয়ে রাখেন। চার সদস্যের পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে ২০১০ সালে নতুন যুদ্ধে নামেন গাইবান্ধা সদরের বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা গ্রামের সাইদুর রহমান। জমানো ৬০ হাজার টাকায় বাড়ির পাশে বন্ধক নেন এক বিঘা পাঁচ কাঠা জমি।

এরপর সবজি চাষের মাধ্যমেই শুরু হয় সাইদুরের সফলতার গল্প। বর্তমানে তিনি সাত বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন। সবজি চাষ করেই সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। এলাকায় সৃষ্টি করেছেন সফলতার উদাহরণ।

জানা যায়, ধান চাষ লাভজনক না হওয়ায় সাইদুর রহমান সবজি চাষে নামেন। জমিতে বেগুন, আলু, টমেটো, শিম, করল্লা, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, ডাঁটা ও লাউসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করছেন। দেশি পদ্ধতিতেই সব চাষ করেন। ফলন বাড়াতে মানবদেহের ক্ষতিকারক রাসায়নিক স্যার এবং ওষুধ ব্যবহার করেন না। জৈবসার দিয়েই চাষাবাদ করে থাকেন। ফলনও হয় বেশ। সংসারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর এক থেকে সোয়া লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন সাইদুর রহমান।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক হালকা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের সামান্য ক্ষতি হয়। তবুও এ বছর সাড়ে চার লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন। তার ক্ষেতে লক লক করছে নানা ধরনের সবজি। এ বছর প্রায় দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষও করেন। শীতকালীন সবজি ক্ষেতে প্রতিদিন ৩-৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।

সফল সবজি চাষি সাইদুর রহমান বলেন, সবজি চাষ করেই তিনি এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আরেক মেয়ে স্নাতক পড়ছে আর ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। বর্তমানে চারজনের সংসারের ভরণপোষণ এবং ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ আসে সবজি চাষের লাভের টাকা থেকেই।

সবজি চাষ করেই তিনি পরিবার নিয়ে ভালোই আছেন। দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় বাজারে তার সবজির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিক্রিতেও ভালো দাম পাওয়া যায়। কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে লাভবান হতে পারেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, চাষি সাইদুর রহমানকে ধন্যবাদ। তিনি সফলতার সঙ্গে সবজি চাষ করে যাচ্ছেন। তিনি আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে সব সময় পাশে পাবেন।