নীলফামারীতে স্কুলের পাশে তামাক কল

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬

নীলফামারীতে স্কুলের পাশে তামাক কল

নীলফামারী প্রতিনিধি ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

print
নীলফামারীতে স্কুলের পাশে তামাক কল

নীলফামারী জেলা সদরের পলাশবাড়ি বাজারে বিদ্যালয়ের ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কল। ওই কল থেকে নির্গত তামাকের ঝাঁঝালো ধুলায় লেখাড়া বিঘ্ন হচ্ছে ৪০০ শিশু শিক্ষার্থীর। পাশাপশি এসব শিশুর বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের, নিয়মের তোয়াক্কা না করে পলাশবাড়ি বাজারে দুই বছর আগে তামাক প্রক্রিয়া কলটি স্থাপন করেন এলাকার দীপু সরকার। সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন নামের একটি বিদ্যালয় ঘেঁষে সেটি স্থাপন করেছেন তিনি। সেখান থেকে প্রতিনিয়ন নির্গত তামাকের ঝাঁঝালো ধুলায় বিদ্যালয়ে টিকতে পারছে না শিশু শিক্ষার্থীরা। এতে লেখাপড়ার বিঘ্নের পাশাপাশি ওই শিশুদের বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

কথা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুপুর রায় বলে, বাতাসের সঙ্গে তামাকের ধুলা আসে। ওই ধুলায় আমাদের কাশি হয়, বমি হয়, ক্লাসে বসে থাকতে পারি না। অনেকে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে যায়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈতি সরকার বলেন, তামাকের ধুলায় আমাদের খুব কষ্ট হয়, শ্বাস নিতে ঝাঁঝ লাগে। ক্লাস করতে পারি না। স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার রুচি থাকে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষক পুরবী মোহন্ত বলেন, ওই কল থেকে নির্গত ধুলায় শিশুদের পাশপাশি আমাদেরও সমস্যা হয়। ঝাঁজে হাচি, কাশি শুরু হয়।

অপর শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত। তামাক প্রক্রিয়ার কলটি স্থাপন করা হয়েছে দুই বছর আগে। সেটি স্থাপনের পর থেকে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। অসুবিধার কথা মালিককে একাকিবার বলার পর কথা দিয়েছিলেন স্কুল চলাকালে তামাক কল চালাবেন না। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথাই রাখেননি। এখন দিনরাত সমান তালে কল চালাচ্ছেন।

ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ চঞ্চল চ্যাটার্জি বলেন, বিদ্যালয়টির সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ৪০০ জন শিক্ষার্থী। ২০০৯ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপণী পরীক্ষায় শতভাগ পাস করেছে। ২০১৮ সালে ওই পরীক্ষায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারেও ৫৫ জন সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। ভালো ফলাফলের আশা করছি আমরা। গত দুই বছর ধরে ওই তামাক প্রক্রিয়া কলের ঝাঝালো ধুলায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে জনবহুল স্থানে এমন পরিবেশ দূষণকারী কল স্থাপনের নিয়ম নেই। এরপরও তিনি কীভাবে সেটি স্থাপন করে সচল রেখেছেন বুঝতে পারছি না। গত বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পলাশবাড়ি বাজার এলাকায় সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের অবস্থান। সেটি ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কল।

দেখভালের দায়িত্বে থাকা কলের মালিক দীপু সরকারের কাকা হরলাল সরকার জানান, ওই কলে সারা বছর একটি বিড়ি এবং একটি গুল কম্পানির জন্য তামাক প্রক্রিযা করা হয়। পাশাপাশি চাল কল ও হলুদ গুঁড়ার কল রয়েছে সেখানে। ওই কলের চাতালে ভুট্টা শুকানো হয় মৌশুমে। ওই কলে বুধবার কাজ করেন ১৫ জন। মৌসুমে কাজ করেন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক।

হরলাল সরকার (৫৬) বলেন, এটাতে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। এলাকার ক্ষতি করার জন্য আমি এটা করিনি। আমি তামাকের পাতা ভাঙছি না। তামাকের ডাঁটি (গাছ) কাটছি, পাতার মতো ডাটির গন্ধ নেই। তার পরও ধুলা বন্ধ করার জন্য অনেক প্রটেকশন দিয়েছি।

পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি নিয়েছেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নেওয়া হয়নি। আর এটির প্রয়োজনও নেই।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।