দিনাজপুর সরকারি কলেজে উচ্ছ্বাস

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

দিনাজপুর সরকারি কলেজে উচ্ছ্বাস

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর
🕐 ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

দিনাজপুর সরকারি কলেজে উচ্ছ্বাস

দিনাজপুর সরকারি কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২৫ বছরপূর্তি বা রজতজয়ন্তী উৎসব উদযাপনের দিনটি এই বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের জন্য হয়ে ওঠে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের। কলেজ ক্যাম্পাসের প্রিয় প্রাঙ্গণ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মাঝে পুরনো স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে। তারা ভেসে গেছেন আনন্দেও স্রোতে।

২০০৬ সালে দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন আয়েশা সিদ্দিকা ও মনিষা আক্তার মনি। ভর্তির দিনই তাদের সখ্য হয়ে যায় এবং রোল নাম্বার আগে-পিছে হওয়ায় ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। তারা হয়ে ওঠেন প্রিয় বান্ধবী। এরপর একসাথে ক্লাস, পরীক্ষা, প্রাইভেট পড়া, কলেজে যাওয়া আসা, ক্যাম্পাসে কত গল্প, কত আড্ডা, আরও কত কী! এভাবে কেটে যায় দিন, অনার্স কোর্স শেষ হয়। এরপর আয়েশা সিদ্দিকা পরিবারের ইচ্ছায় ঢাকায় গিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। মনিষা আক্তার মনি রয়ে যান এই কলেজেই। সে সময় মোবাইল ফোনে প্রিয় বন্ধাবীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও ধীরে ধীরে জীবনের প্রয়োজনে তা কমতে থাকে। একপর্যায়ে আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের রজতজয়ন্তী উৎসবে দীর্ঘ সাত বছর পর প্রিয় বান্ধবী আয়েশা সিদ্দিকার সঙ্গে মনিষা আক্তার মনির দেখা। সঙ্গে সঙ্গে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ এক অন্য রকম অনুভূতি। এই আনন্দ অনুভূতির সঙ্গে আনন্দাশ্রু যেন ভালোবাসাটাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর শুরু হয় দুই বান্ধবীর গল্প, এই কথা সেই কথা। কলেজ ক্যাম্পাসের সেই দুর্দান্ত সুন্দর দিনগুলিতে একসঙ্গে পথ চলার গল্প। গল্প আর গল্প, যেন শেষ হয় না, শেষ হতে চায় না...।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার বিজ্ঞান ভবনের সামনেই সাজানো হয় মঞ্চ। মঞ্চের এক পাশে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের চলেছে নাম নিবন্ধন। নীল রঙের টি শার্ট পরিহিত বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় এই বিভাগের অঙ্গন। প্রিয় বন্ধু বান্ধবীকে কাছে পেয়ে সবাই হারিয়ে যান আবেগ ও আনন্দের জোয়ারে। মঞ্চের পাশে বেজে উঠছে মিউজিক আর সেই মিউজিকের তালে তালে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রছাত্রীরা একাকার হয়ে নাচতে শুরু করেন।

উৎসবে অংশ নেওয়া প্রাক্তন ছাত্র মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, অনেকদিন পর প্রিয় বিভাগে আসার পর নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার প্রিয় দুইজন বন্ধুকে কাছে পেয়ে অনেক গল্প আর আনন্দ করেছি। এই মিলনমেলা জীবনের অত্যন্ত স্মৃতিময় অংশ হয়ে থাকবে। এখন কর্মজীবনে পদার্পণ করেছি কিন্তু প্রিয় স্যারদের কাছে পেয়ে মনে হয়েছে যেন কলেজের এই বিভাগের শিক্ষার্থীই আছি।

আফরিন জাহান চৌধুরী বলেন, রজতজয়ন্তী উপলক্ষে অনেকদিন পর প্রিয় কলেজ ক্যাম্পাসে প্রিয় বিভাগে আসা হল। এই বিভাগের প্রতিটি কক্ষে একবার করে ঘুরে এলাম। এখানে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমার। এখন মনে হচ্ছে এই তো সে দিন এখানে ভর্তি হয়েছিলাম কিন্তু অনেক দিন পার হয়েছে এরই মধ্যে। এখন আমার ছেলে ৫ম শ্রেণির ছাত্র।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২৫ বছরে অনেক ছাত্রছাত্রী এই বিভাগ থেকে পড়াশুনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুনামের সাথে কাজ করছেন। তাদের কথা মনে হলে গর্বে আমার বুকটা ভরে যায়। কয়েকজন ছাত্র আছেন এই বিভাগের যারা আজ এই বিভাগেরই শিক্ষক হয়ে আমার পাশে বসে শিক্ষকতা করছেন। তাদেরকে এখনও আমার ছাত্রই মনে করি। তারাও আমাকে তাদের শিক্ষক হিসেবেই সম্মান করেন। এই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন। আমাকেও একদিন অবসরে চলে যেতে হবে। আজকের এই আয়োজন বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনেক দিনের পুরনো স্মৃতিকে আবার নতুন করে জাগরিত করেছে।

গত শুক্রবার দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি’র রজরজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল বাছেদ মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আব্দুল জলিল, কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান হাম্মাদুল বার, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, রংপুর কারমাইকেল কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান নাজমা বেগম, সরকারি কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দাইমুল ইসলাম, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক চিত্ত রঞ্জন মহন্ত, সদস্য সচিব বাবুল হোসেন, সদস্য আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, ১৯৪১ সালে কলকাতা রিপন কলেজের শাখা হিসেবে যাত্রা শুরু করে এই কলেজ। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৮ সালে এটি সুরেন্দ্রনাথ কলেজ (এসএন) নামে প্রতিষ্ঠিত হয় ও খ্যাতি লাভ করে। ১৯৬৮ সালে প্রাদেশিকীকরণ করার ফলে কলেজটি দিনাজপুর সরকারি কলেজ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৯৩ সালে এ কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়।

 
Electronic Paper