ড্রেজারে বিক্ষত সংকোস নদী

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বালু উত্তোলনে হুমকিতে দুই সেতু

ড্রেজারে বিক্ষত সংকোস নদী

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
🕐 ৫:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

ড্রেজারে বিক্ষত সংকোস নদী

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা কচাকাটা থানার সংকোস নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালুর ব্যবসা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ড্রেজার মেশিনের তাণ্ডবে সংকোস নদী এখন ক্ষতবিক্ষত। বালু সিন্ডিকেটের একটি দল বছরের পর বছর নদীর বিভিন্ন স্থানের বালু তুলে নদীকে করেছে বিক্ষত। বালু উত্তেলনের কারণে ভাঙছে নদীর পাড়সহ স্থানীয়দের আবাদি জমি।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলায় হুমকির মুখে আছে কচাকাটা সেতু, গাবতলা সেতু, কচাকাটা ডিগ্রি কলেজসহ কয়েকটি সরকারি স্থাপনা। মাঝে মধ্যে স্থানীয়দের অভিযোগে প্রশাসন অভিযান চালালেও থামছে না সংকোসের বালু উত্তলোন।

উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার, কচাকাটা এবং বল্লভের খাষ ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে চলা এ নদীতে দশটির অধিক ড্রেজার বালু উত্তলোনের কাজে চালু থাকে। বর্তমানে এ নদীর কেদার ইউনিয়নের সাতানা গ্রামের অংশে হাফিজুর ইসলাম নামে একজনের একটি, বল্লভের খাষ ইউনিয়নের গাবতলা সেতুর নিকটে গাজিউর রহমানের দুটি এবং বল্লভের খাষ পুরাতন পরিষদের নিকটে লিংকন নামে একজনের একটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এছাড়া তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ ড্রেজার দিয়ে দুধকুমার নদসহ সরকারি এবং মালিকাধীন জলাশয় থেকে বালু উত্তোলন করে থাকে একাধিক ড্রেজার মালিক।

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ড্রেজার মালিক ও ইউপি সদস্য গাজিউর রহমান জানান, কচাকাটা থানা এলাকায় ছোটবড় প্রায় ২০টি ড্রেজার চলে। তিনি নিজেও দুটি ড্রেজারের মালিক। কখনও সংকোস আবার কখনও দুধকুমার নদে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে থাকেন। বর্তমানে সংকোস নদীতে দুটি ড্রেজার চলমান রয়েছে তার।

এদিকে বরিশালের হাফিজুর ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে বড় ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে ব্যবসা করছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া কেদার ইউনিয়নের কেরাম আলী, কাচুয়া, মোস্তফা, বল্লভের খাষ ইউনিয়নের বাচ্চু, হেলাল, বয়েজতুল্লাসহ ১০-১২ জন বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

কেদার ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী মাসুদ জানান, অবৈধ ড্রেজার বন্ধে আমরা প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে তা সফল হচ্ছে না।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-আহমেদ মাছুম জানান, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলমান আছে। সংকোস নদীতে ড্রেজারের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
Electronic Paper