এমপিকেও তেল দিলেন না পাম্প শ্রমিকরা!

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এমপিকেও তেল দিলেন না পাম্প শ্রমিকরা!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

print
এমপিকেও তেল দিলেন না পাম্প শ্রমিকরা!

জ্বালানি না দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনকে বহনকারী গাড়িকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তেল পাম্পের শ্রমিকরা। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে জেলা শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

ঠাকুরগাঁও ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে জ্বালানি নিতে গেলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও সফর শেষে গতকাল রোববার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। তাকে বহনকারী গাড়ি দুটি শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নেওয়ার জন্য গেলে জ্বালানি না দিয়েই ফিরিয়ে দেন পাম্পে কর্মরত শ্রমিকরা। এ সময় গাড়িতে বসা ছিলেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের ব্যক্তিগত সহকারী ও ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম স্বপন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দর যাওয়ার পথে শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে গেলে তেল দেয়নি পাম্পের শ্রমিকরা। এমপির গাড়িতে ডিজেল না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পাম্পে কর্মরত শ্রমিক অটল রায় বলেন, পেট্রল পাম্প মালিকের নির্দেশে সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছি আমরা। শুধু এমপি নন, কোনো গাড়িতেই জ্বালানি দিচ্ছি না।

বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঠাকুরগাঁওয়ের সভাপতি এনামুল হক নয়া বলেন, ইতোপূর্বে সরকারের কাছে আমাদের বিভিন্ন দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সরকার শুধু আশ্বাস দিয়েছে, বাস্তবায়ন করেনি। এবার ১৫ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি চলবে। এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পেট্রল পাম্প শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন জ্বালানি ব্যবহারকারীরা। জ্বালানি নিতে এসে খালি নিয়ে ফিরে গেছেন অনেকেই।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের ডাকা ধর্মঘটে সাড়া দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচ উপজেলার ৩২টি পাম্পের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে একদিকে যেমন বিপাকে পড়েছেন গাড়িচালকরা অন্যদিকে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধর্মঘট চলমান থাকলে ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে রংপুরের যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন গাড়িচালকরা। পাশাপাশি বোরো মৌসুম ও শীতকালীন সবজি চাষের সময়ে জ্বালানি না পেলে জমিতে সেচ কাজ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।