এক লাখ মানুষের চার চিকিৎসক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এক লাখ মানুষের চার চিকিৎসক

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ৭:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৯

print
এক লাখ মানুষের চার চিকিৎসক

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। উপজেলার এক লাখ মানুষের জন্য তৈরি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে। যন্ত্র ও জনবল সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। এছাড়া হাসপাতাল থেকে সব ধরনের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন রোগীরা।

জানা যায়, হাকিমপুর (হিলি) উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য ১৯৮৬ সালে হিলি স্থলবন্দরের অদূরে চন্ডিপুরে নির্মাণ করা হয় ৩১ শয্যার হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ২০১৩ সালে ৩১ শয্যা থেকে বাড়িয়ে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতালটিতে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ, একজন মেডিসিন, একজন গাইনি ও একজন সার্জারিসহ ১৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র চারজন চিকিৎসক রয়েছেন। তবে নার্সের কোনও সংকট নেই। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর নবনির্মিত ভবনটি উদ্বোধন করা হলেও কেবিনগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘গত শনিবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি আছি। ভর্তি হওয়ার সময় একবার ডাক্তার দেখেছেন। এরপর থেকে একজন ডাক্তার সকালে আর রাতে দেখতে আসেন। হাসপাতালে কোনও ইসিজি মেশিন ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। এ কারণে আমাদের ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম বাইরে থেকে করতে হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে সব ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রুপা সাহা বলেন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রয় ৩ থেকে সাড়ে ৩শ’ রোগী আসে। এছাড়া ইনডোরে ৫০ জনের বেশি রোগীর সঙ্গে ইমার্জেন্সির রোগী তো আছেই।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আমরা মাত্র চারজন চিকিৎসক কর্মরত আছি। প্রতিদিন ইনডোর, আউটডোর ও ইমার্জেন্সি এই তিনটি বিভাগে চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও বেশ কিছুদিন ধরে অপারেটরের অভাবে হাসপাতালে ইসিজি মেশিনটি চালানো যাচ্ছে না। এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও নেই। এবিষয়েও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা এ সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন।