সাত বছর শিকলবন্দি পঞ্চগড়ের করসিনা

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সাত বছর শিকলবন্দি পঞ্চগড়ের করসিনা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ৫:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০১৯

print
সাত বছর শিকলবন্দি পঞ্চগড়ের করসিনা

দীর্ঘ সাত বছর ধরে শিকলবন্দি হয়ে চার দেওয়ালের অন্ধাকার ঘরের চৌকির খুঁটি কোন সময় বাড়ির বারান্দার খুঁটির সঙ্গে লোহার শিকলে বাঁধা মানবেতর অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের হড়েয়া পাড়া এলাকার কলিম উদ্দিনের মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে করসিনা বেগম।

দীর্ঘ সাত বছরের সংসার জীবনে দুই সন্তানের জননী করসিনা স্বামীর নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরেছেন বর্তমানে এবং অস্বাভাবিক আচরণে তার পরিবার তাকে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে লোহার শিকলে বাধে রাখেন। বেঁধে রাখা শিকলে পায়ে ঘা হয়ে গেলে ও মুক্তি মিলছে না করসিনার।

জানা যায়, সাতমেড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের মানিক ডোবা এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় আর আট-দশ জনের মত বিয়ের পর ভালোই চলছিল তার নতুন সংসার।

দীর্ঘ দুই বছর পর করসিনার ঘরে এলো নতুন অতিথি তার প্রথম ছেলে সন্তান। ছেলে বড় হওয়ার পাশাপাশি প্রায় আরও দুই বছর পর কন্যা সন্তানের জন্ম। কন্যা সন্তান প্রসব হওয়ার সময় শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মানসিক অসুস্থ হয়ে পরলে স্বামী আবুল হোসেন কোন প্রকার চিকিৎসা না করে তার সঙ্গে মানসিক ও শারীরিক ভাবে তাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করতো। পাঁচ বছরের সংসার জীবনের ধীরে ধীরে করসিনার আচরণ পাগলের মত পরিণত হলে তার স্বামী তাকে তালাক দেয়। এ অবস্থা দেখে করসিনার পরিবার তাকে বর্তমানে বাবার বাড়ি নিয়ে আসে।

পরিবারের লোকজন জানান, মাথায় সমস্যা আছে এমন অভিযোগে শিকলবন্দি জীবন এবং তার পাগলামীর কারণে নিরুপায় হয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, আরও আট-দশটা মেয়ের মত করে সুস্থ শরীরিরে ছিল করসিনা। দশম শ্রেণিতে পড়াশুনা করার সময় বিয়ে হয় তার এবং বিয়ের পর কোন প্রকার সমস্যা ছিল না।

করসিনার বাবা কলিম উদ্দিন জানান, আমার মেয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে আমার সব শেষ আজ। অভাবের কারণে আমি আমার মেয়ের চিকিৎসা করতে পারছিনা ফলে মেয়ের দুশ্চিতায় কষ্ঠে দিনযাপন করতে হচ্ছে আমাদের তারপরও তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে দুই মাস রাখা হয়েছিল। তবে আর্থিক অনটনে চিকিৎসা হয় নাই। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা তার পায়ে শিকল বেঁধে রাখেন।

সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, করসিনা মানসিক অসুস্থতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দুই বছরের জন্য তার পরিবারকে একটি ভিজিডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।