জনগণের দরবার

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জনগণের দরবার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০১৯

print
জনগণের দরবার

থানা চত্বরের কাঁঠাল গাছতলায় ‘জনগণের দরবার’ নামে টাঙানো হয়েছে সাইনবোর্ড। সামনে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে আছেন ওসি আশিকুর রহমান। আর তার আশপাশে চেয়ারে বসে অথবা দাঁড়িয়ে অনেক মানুষের ভিড়। তারা এসেছেন নানা সমস্যা নিয়ে। সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) এমন চিত্র দেখা গেছে ঠাকুরগাঁও সদর থানায়। নিজের অফিস কক্ষ ছেড়ে থানা চত্বরের গাছতলায় বসে এভাবে কাজ করছেন ওসি আশিকুর রহমান। তার লক্ষ্য- সাধারণ মানুষের মন থেকে পুলিশভীতি দূর করা। বৃহস্পতিবার থেকে তিনি এই গাছতলাতেই অফিস করছেন। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। তার বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। অপরাধ নির্মূলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য পুলিশ বিভাগ থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন।

সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রাম থেকে থানায় অভিযোগ নিয়ে এসেছেন গৃহবধূ রোজিনা আক্তার। তিনি বলেন, স্বামীর বাড়ির লোকজন বিনা কারণে আমার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছিল। এ অভিযোগটি থানায় দিতে এসেছি। এসে দেখি ওসি থানা চত্বরের কাঁঠালতলায় বসে রয়েছেন। তিনি আমার অভিযোগটি গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

শহরের মিলনপুর এলাকা থেকে ফাহিম রেজা এসেছেন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে। তিনি বলেন, থানায় ওসির কক্ষে গিয়েছিলাম কিন্তু তাকে পাইনি। পরে দেখি তিনি গাছতলায় বসে অফিস করছেন। ওসিকে কাগজটি দিলে তিনি বিনাখরচে সেটি নথিভুক্ত করলেন। আগে জানতাম থানায় জিডি করলে টাকা-পয়সা লাগে; কিন্তু আজকে আমার সেই ধারণা পাল্টে গেছে।

শহরের মুসলিমনগর এলাকার ৭০ বছরের বৃদ্ধ জুলেখা বেগম বলেন, ইলিয়াস আলী নামে একজনকে সাড়ে নয় হাজার টাকা ধার দিয়েছিলাম। এরপর অসংখ্যবার তার কাছে টাকা ফেরত চেয়েছি কিন্তু সে টাকা দেয়নি। পরে এসেছি থানা চত্বরে অবস্থিত ‘জনগণের দরবারে’। ওসি অভিযোগ গ্রহণ করে ইলিয়াসকে আটক করেছেন। আমার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

অভিযোগ নিয়ে আসা সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ বলেন, শুনেছি ওসি নিজেই ‘জনগণের দরবার’ খুলে বসেছেন মানুষকে সেবা দিতে। এটি শুনেই চলে এসেছি পারিবারিক জমি দখলমুক্ত করার অভিযোগ নিয়ে। ওসি অভিযোগ গ্রহণ করেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় ওসি আমাকে তিনশ টাকা দিয়েছেন যাতায়াত ভাড়ার জন্য।

ওসি আশিকুর রহমানের ‘জনগণের দরবার’ নামের এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওবাসী।

তারা বলছেন, ওসি আশিকুর রহমানের এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর আগে কখনো এমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। পুলিশের এ ধরনের অভিনব কার্যক্রম সব সময় অব্যাহত থাকুক।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি আশিকুর রহমান বলেন, পুলিশের কাজ হচ্ছে জনগনের সেবা করা; তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি এটা করছেন।

তিনি বলেন, ওসির রুমে ঢুকতে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। এ জন্য অনেকে দালাল শ্রেণির লোক নিয়ে থানায় আসেন। জনগণের সেই পুলিশভীতি কাটাতে নিজ কক্ষ ছেড়ে থানা চত্বরে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় অফিস শুরু করেছি। আমার থানায় যে কোনো মানুষ ভয়ভীতি ছাড়াই আমার কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারবে। প্রত্যেক দিন গাছতলায় বসেই অফিস করব। আমি প্রমাণ করতে চাই পুলিশ জনগণের বন্ধু।