তিন সন্তান বাঁচাতে মরিয়া দম্পতি

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

একসঙ্গে চার শিশুর জন্ম

তিন সন্তান বাঁচাতে মরিয়া দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০১৯

print
তিন সন্তান বাঁচাতে মরিয়া দম্পতি

দাম্পত্য জীবনে প্রথমবার প্রসূতি হয়ে চার সন্তান জন্ম দিয়েছেন কুড়িগ্রামের আকলিমা বেগম। তবে এর মধ্যে তিন সন্তান জীবিত থাকলেও দুর্ভাগ্যবশত ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মারা গেছে এক সন্তান। গত ২৭ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ হয় চার শিশু। এদের মধ্যে দুটি মেয়ে ও একটি ছেলে জীবিত থাকলেও আরেকটি ছেলে শিশু মারা গেছে। ঢামেক হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং তিন সন্তানের পিতার বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, নবজাতকদের বাবা আশরাফুল ইসলাম (৩৪) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তার স্ত্রী আকলিমা বেগম গৃহিণী (২৫)। আশরাফুলের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কুমেতপুর গ্রামে। ছয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। আর কাজের সূত্রে এই দম্পতি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার বোর্ডবাজার এলাকায় থাকেন। জীবিত তিন সন্তানকে বাঁচাতে মরিয়া এই দরিদ্র দম্পতি সবার কাছে দোয়া এবং সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাকে স্থানীয় একজন গাইনি চিকিৎসক দেখাই। কিছুদিন পর চিকিৎসকরা জানান, স্ত্রীর পেটে নাকি একসঙ্গে চারটি বাচ্চা। স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন তারা। গত ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেলে এনে ভর্তি করি। পরদিন ভোরে সিজার (অস্ত্রোপচার) করে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই ডাক্তাররা জানান, শিশুদের দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা প্রয়োজন। ঢাকা মেডিকেলের নবজাতক বিভাগে সিট খালি না থাকায় তাদের দ্রুত যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। সেখানে দুই দিন রাখার পর জানতে পারি, বিল হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। পরে ঋণ নিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে সন্তানদের আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। পরদিন হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে গিয়ে আমার সন্তানদের বাঁচানোর অনুরোধ জানাই। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর একটি সিট খালি হলে সেখানে বাচ্চাদের রাখা হয়। এখন আমার বাচ্চারা নবজাতক বিভাগে ভর্তি আছে।’

সন্তানদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়াসহ আর্থিক সাহায্যও প্রত্যাশা করেছেন আশরাফুল। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আশরাফুল-আকলিমা দম্পতি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নবজাতকদের বাবা আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু তখন সিট ফাঁকা ছিল না। পরে সিট ফাঁকা হলে তাদের নবজাতক বিভাগে ভর্তি করা হয়। নবজাতকেরা আগের চেয়ে ভালো আছে। চিকিৎসকেরা তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে এনআইসিইউ থেকে বের না করা পর্যন্ত তাদের আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।’