হত্যার অভিযোগ পরিবারের

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চট্টগ্রামে সড়কে সার্জেন্টের মৃত্যু

হত্যার অভিযোগ পরিবারের

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

print
হত্যার অভিযোগ পরিবারের

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট বকশি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর (শাওন) মৃত্যুর ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে মেনে নিচ্ছেন না তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, ‘কাভার্ডভ্যানের চালক পূর্ব আক্রোশ থেকে ইচ্ছা করেই তাকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেছে।’ গতকাল শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রামে নিহত পুলিশ সার্জেন্টের বাড়িতে গেলে তারা এ অভিযোগ করেন।

সার্জেন্ট বকশির মায়ের বরাতে ছোট ভাই মেহেদী হাসান বাঁধন বলেন, ‘এবার ভাই এসে মাকে বলেছেন, মা আমি যে জায়গায় চাকরি করছি (চট্টগ্রামের বন্দর রোড) সেই জায়গাটা ভালো না। খুব তাড়াতাড়ি অন্যত্র বদলি নেবো। ভাই বদলি নিয়েছেন, কিন্তু সেটা চিরতরের বদলি! ভাই আর ফিরবেন না।’

মেহেদী হাসান বাঁধন বলেন, ‘এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। আমার ভাই গাড়ি চালকের আক্রোশের শিকার, এটা হত্যাকাণ্ড।’

একজন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে এভাবে মেরে ফেলা মেনে নেওয়া যায় না মন্তব্য করে বাঁধন বলেন, ‘আমার ভাই যে এলাকায় দায়িত্ব পালন করতেন, সেই রোডে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির গাড়ি চলতো। বিভিন্ন সময় ভাই ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন। এমন নানা কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ভাইকে গাড়ি চাপা দেওয়া হয়েছে।’

বাঁধন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ছুটি কাটিয়ে গত ১৩ অক্টোবর কর্মস্থলের উদ্দেশে চট্টগ্রাম যান প্রয়াত সার্জেন্ট শাওন। ছুটিতে এসে বাড়িতে অনেক আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াতও খাইয়েছেন তিনি। যাওয়ার আগে স্থানীয় মসজিদ ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য দানও করেছেন।

নিহত পুলিশ সার্জেন্ট বকশি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম পোড়ামানিকটারী গ্রামে। তার বাবার নাম বকশি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও মায়ের নাম মর্জিনা বেগম। স্ত্রীর নাম মিথিলা।

গতকাল সকালে নিহত পুলিশ সার্জেন্ট বকশি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শাওনের লাশের জন্য অপেক্ষা করছেন তার পরিবারের সদস্যসহ স্বজন ও এলাকাবাসী। ছেলের শোকে আর্তনাদ করছেন শাওনের মা মর্জিনা বেগম। দুপুর ১টার দিকে বকশি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে বহনকারী লাশবাহী গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে দুপুর ৩টায় জানাজা শেষে কালাম উদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে সার্জেন্ট বকশিকে দাফন করা হয়। শাওনের মৃতদেহ নিয়ে আসা তার সহকর্মী পুলিশ সার্জেন্ট আলমগীর কবির জানান, ঘাতক কাভার্ডভ্যানের চালক পালিয়ে গেলেও কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।