যমুনায় বালু উত্তোলন নীরব প্রশাসন

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

যমুনায় বালু উত্তোলন নীরব প্রশাসন

দিনাজপুর প্রতিনিধি ৭:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

print
যমুনায় বালু উত্তোলন নীরব প্রশাসন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ছোট যমুনা নদী থেকে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ্য ভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করলেও নিরব ভূমিকায় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে নদীর বিভিন্ন এলাকায় বালু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত বালু উত্তোলন করায়, নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে নদীর গ্রামরক্ষা বাঁধসহ ফসলী জমি। শুধু তাই নয়, বালু ব্যবসায়ীদের ইচ্ছামত বালুর দাম নেওয়ায় তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে, বালু বহনকারী ট্রাক্টর মালিক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ছোট যমুনা নদীর রাজারামপুর মৌজার বেলতলী ঘাট ও গোপলপুর ঘাট বালুমহল হিসেবে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বালুমহল ইজারাদার ইমরুল হুদা চৌধুরী ইনু, বেলতলী ও গোপলপুর ঘাট ছাড়াও, উপজেলা শিবনগর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদ ঘাট, মৎসর বীল থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিধারছে বালু উত্তোলন করছে।

এছাড়া উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মহদিপুর ঘাট, জমিদারপাড়া ঘাট, দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া ঘাট, জানিপুর ঘাটে সাব-ইজারাদার নিয়োগ করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ইচ্ছামত বালু উত্তোলন করছে। বারাইপাড়া ঘাটের বালু উত্তোলনকারী বাবলু মিয়া বলেন, প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা চুক্তিতে, বালুমহল ইজারাদার ইনুর কাছ থেকে তিনি বারাইপাড়া ঘাট সাব-ইজারা নিয়েছেন। একই কথা বলেন, মহদিপুর ঘাটের বালু উত্তোলনকারী মুরাদ হোসেন।

জমিদারপাড়া ঘাটের বালু উত্তোলনকারী মতিয়ার রহমান বলেন, জমিদার পাড়া ঘাট থেকে বালু উত্তোলনের জন্য প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতে হয় বালুমহলের ইজারাদার ইমরুল হুদা চৌধুরী ইনুকে। বালুমহল ইজারাদার ইমরুল হুদা চৌধুরী বলেন, মাত্র দুটি ঘাট থেকে বালু উত্তোলন করে ইজারা মূল্য পরিশোধ করা কঠিন, তাই তিনি ওইঘাটগুলো সাব-ইজারা প্রদান করেছেন।

জাফরপুর গ্রামের বাসীন্দা প্রভাষক হামিদুল হক বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে গত বছরে বন্যায় তার প্রায় এক একর ফসলী জমি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এই বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, কিছুদিন আগে একটি ট্রলি ও ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বাকি অবৈধ্য বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, কেউ অবৈধ্য ভাবে বালু উত্তোলন করতে পারবে না। তিনি অল্পসময়ের মধ্যে অবৈধ্য বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।