হারাগাছ পৌরসভায় উৎকোচ বাণিজ্য

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

হারাগাছ পৌরসভায় উৎকোচ বাণিজ্য

১০৯ বিড়ি কারখান

মোস্তাক আহমেদ, কাউনিয়া (রংপুর) ৪:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
হারাগাছ পৌরসভায় উৎকোচ বাণিজ্য

রংপুরের কাউনিয়ায় হারাগাছ পৌরসভা কার্যালয়ে উৎকোষ বাণ্যিজের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সের প্রদানে অভিযোগ উঠেছে। আর যত্রতত্র লাইসেন্স নিয়ে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ছোট ছোট বিড়ি কারখানা। আর এসব ছোট বিড়ি মালিকরা সরকারি কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কমমূল্যে পন্য বাজারজাত করছে।

এতে প্রতিষ্ঠিত বিড়ি ফ্যাক্টরীগুলো বন্ধের পথে। বিড়ি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে যত্রতত্র ট্রেড লাইসেন্স না দেওয়ার জন্য পৌর মেয়রকে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

হারাগাছ বিড়ি মালিক সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, পৌর এলাকায় বড়- ছোট প্রায় ৩০টি বিড়ি ফ্যাক্টরী ছিল। কিন্তু গত তিন বছরে পৌর এলাকায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ১০৯ টি বিড়ি কারখানা গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, যত্রতত্র ট্রেড লাইসেন্স ও অনলাইনে আবেদন নিয়ে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ছোট বিড়ি ফ্যাক্টরী। আর এসব ছোট ফ্যাক্টরীর মালিকরা সরকারি কোষাগাড়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ৪-৫ টাকায় বিড়ির প্যাকেট বাজারে বিক্রি করছে। ফলে প্রতিষ্ঠিত বিড়ি ফ্যাক্টরীগুলোতে উৎপাদন হ্রাস পেয়ে বর্তমানে বন্ধের পথে। অথচ প্রতিষ্ঠিত বিড়ি মালিকরা প্রতিমাসে সরকারি কোষাগাড়ে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব জমা করছে।

জানা গেছে, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট হারাগাছ সার্কেলের অধীনে নিবন্ধিত বড়-ছোট ১৮৯ টি বিড়ি ফ্যাক্টরী রয়েছে। এরমধ্যে হারাগাছ পৌর এলাকায় নিবন্ধিত প্রায় শতাধিক এর বেশী বিড়ি ফ্যাক্টরী রয়েছে।

এদিকে, অনুসন্ধানে প্রকাশ, হারাগাছ পৌর কার্যালয়ের ওয়েব পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী পৌর এলাকায় বড়- ছোট ২৬টি বিড়ি কারখানা রয়েছে। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮০টি বিড়ি ফ্যাক্টরীর ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়। আর চলতি অর্থবছরে ২৯ আগষ্ট পর্যন্ত ৬৬টি বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিককে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। আরও নতুন ও পুরাতন মিলে প্রায় অর্ধ শতাধিক বিড়ি ফ্যাক্টরীর ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার অপেক্ষামান রয়েছে।

এ ছাড়া পৌর কার্যালয়ে ট্রেড লাইসেন্স পরিদর্শক শাখায় উৎকোচ বাণ্যিজে মেলে বিড়ি ফ্যাক্টরীর ট্রেড লাইসেন্স। একটি ট্রেড লাইসেন্সের নির্ধারিত ফি ছাড়াও বকেয়ার ফির নামে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি দিতে হয়। কথাগুলো কোনো দালাল কিংবা পৌরসভার বাইরের কোনো লোকের নয়। স্বয়ং পৌর কার্যালয়ের লাইসেন্স পরিদর্শক শাখায় ভারপ্রাপ্ত লাইসেন্স পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিটুল।

এমএলএসএস (ভারপ্রাপ্ত লাইসেন্স পরিদর্শক) সাইফুল ইসলাম বিটুল বলেন, কোন ব্যবসায়ী মালিক নুতন করে লাইসেন্স নিতে চাইলে তিন থেকে চার বছরের বকেয়া ফি আদার করে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এতে মেয়র স্যারের অনুমতি আছে। পৌর সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সে তার স্বাক্ষর থাকার নিয়ম থাকলে এখানে তা মানা হয় না।

পৌর মেয়র হাকিবুর রহমান বলেন, জনবল কাঠামো না থাকায় প্রায় ১৬ বছর ধরে পিয়ন দিয়ে লাইসেন্স পরিদর্শকের কাজ করা হচ্ছে। এতে কিছুটা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, আগে কি হয়েছে জানি না। এখন পরিদর্শণ ছাড়া কাউকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না।