ডোমারে সড়ক সংস্কারের দাবি

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬

ডোমারে সড়ক সংস্কারের দাবি

জনপ্রতিনিধিদের অবাঞ্চিত ঘোষণার হুমকি

নুরে রোকসানা সুমি ৯:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯

print
ডোমারে সড়ক সংস্কারের দাবি

সড়ক সংস্কার ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধনের মাধ্যমে আন্দোলন করে আসছে নীলফামারী জেলার ডোমারবাসী। শনিবার (২৭ জুলাই) ডোমার রেলঘুমটি মোড়ে প্রতিবাদী ডোমারবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এসময় সওজ নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং দাবি না মানলে আগামী ১৮ আগষ্ট হরতালেরও ঘোষণা দেয় অংশগ্রহণকারীরা। এসময় সব প্রকার যানবহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে, জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিরবতা ও মানববন্ধনে জনগণের পাশে না দাঁড়ায় ক্ষোপ প্রকাশ করেন উপস্থিত জনতা।

এসময় বক্তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হুশিয়ার করে বলেন, আগামীতে জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে জনগণের পাশে না দাঁড়ালে এবং নিরব ভূমিকা অব্যাহত থাকলে তাদেরও অবাঞ্চিত ঘোষণা করবে ডোমারবাসী।

উপজেলা জাতীয়পাটি আহবায়ক আসাদুজ্জামান চয়নের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সমাজ সেবক ও সুজনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব, সাংবাদিক আনিছুর রহমান মানিক, ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন, কবি আনোয়ারুল হক, ড. ওমর ফারুক, ছাত্র নেতা রাকিব আল আকাশ, প্রিন্স চাকলাদার প্রমূখ।

সভাপতি ও প্রধান বক্তা আসাদুজ্জামান চয়ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি ডোমারে জাতীয় সমস্যার সমাধানের প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে পিয়ন নিয়োগের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইতিপূর্বে উপজেলা চেয়ারম্যান চিলাহাটীর বাসিন্দা হওয়ায় ডোমারের উন্নয়নে তেমন ভূমিকা ছিল না কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান এবারে ডোমারের স্থানীয় হওয়ার পরেও তিনি ডোমারবাসীর দুর্ভোগে নিরব কেন?

মেয়র মনছুরুল ইসলাম দানুকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি সড়ক থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে টাকা তোলেন। অথচ সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে আপনার কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনা। তিনি বোড়াগাড়ী নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিমুনের মানববন্ধনে অনুপস্থিত থাকায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমি আশা করেছিলাম তিনি এ মানববন্ধনে থাকবেন কিন্তু তিনিও আসলেন না। তবে আশা করছি আগামীতে আসবেন।

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করিম বলেন, ওই সড়কের কাজের দরপত্র হয়েছে। ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। এখন বৃষ্টির কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। ঈদের পরে কাজ শুরু করবে ঠিকাদার। তবে অল্প পরিসরে হলেও কিছু সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে।

এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, খানা-খন্দে ভরপুর ডোমারের প্রধান সড়কটি উপর দিয়ে যাতায়াত করে থাকে প্রস্তাবিত চিলাহাটিগামী ও পঞ্চগড়গামী অনেক পন্যবাহী ট্রাক। এছাড়া যাত্রীবাহী গাড়ির সংখ্যাও কম নয়। সড়কের বেশিরভাগ জায়গায় কোমর সমান গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনেই ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। ফলে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে ডোমারের প্রধান সড়কটি।

এ সড়ক মেরামতের দাবিতে অনেক দিন ধরে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কাজ না হওয়া ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন স্থানীয়রা।