ডোমারে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবার, মিলছে না সহায়তা

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

ডোমারে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবার, মিলছে না সহায়তা

নুরে রোকসানা সুমি ৮:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯

print
ডোমারে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবার, মিলছে না সহায়তা

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের উপর বয়ে যাওয়া ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত শনিবার রাতে ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের টংবান্ধা পাড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বরণকালের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে প্রায় ২০টি পরিবার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাচ্ছেন তারা। এদিকে, ঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মারাত্মক সমস্যায় দিনাতিপাত করছে তারা। ঝড়ের পর তিন দিন পেড়িয়ে গেলেও সরকারি কোন সহযোগীতা পাননি ক্ষতিগ্রস্থরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘুর্ণিঝড়ে একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা ঘরের চাল উড়ে গেছে। এবং সোনারায় ২নং ওয়ার্ড টংবান্ধা গ্রামের আমিনুর রহমান, মমিনুর রহমান, মিজানুর রহমান, আইয়ুব আলী, নজরুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, জহুরুল ইসলাম ও আব্দুস সালামের প্রায় ১৫টি ঘড় ঝড়ে সম্পর্নরুপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবাররগুলির মধ্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, গত শনিবার রাতে প্রচন্ড ঝড়ে আমাদের ঘরগুলো উড়ে যায়। ঘরের মধ্যে থাকা খাবারসহ আসবাবপত্রগুলো ভিজে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ঘরে কোন খাবার না থাকায় অন্যের বাড়ি থেকে খাওয়া নিয়ে এসে খেতে হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ অন্য একজন আইয়ুব আলী বলেন, রাতে হটাৎ ঘুর্ণিঝড়ে আমাদের থাকার ঘর উড়ে যায়। প্রচন্ড ভয়ে সারারাত স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাই। পরের দিন ভেবেছিলাম সরকারের পক্ষ থেকে হয়তো সাহায্য নিয়ে কেউ এগিয়ে আসবে কিন্তু তিনদিন পার হলেও কোন সাড়া পাইনি।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ আব্দুস ছালাম বলেন, আমাদের এ দুর্দিনে সাহায্যের জন্য কাউকে এগিয়ে আসতে না দেখে আমরা হতাশ। শুধু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তৈয়বুর রহমান বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা সবাই গরীব। এমনকি অধিকাংশ পরিবারই ভূমিহীন। নিজের টাকায় ঘরগুলো মেরামত করার মত তাদের অবস্থা নেই। যদি সরকারি ভাবে কিছু সহায়তা পেত তাহলে উপকৃত হত।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঝড়ের পরের দিন সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নিতে গেলে সেখানে হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়। পানির মধ্যেই পরিবারগুলো রাত-দিন কাটাচ্ছে, যা সহ্য করার মত নয়। পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি।

আজ (১৬ জুলাই) ডোমার উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোহায়মিনুল হক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। যাচাই-বাচাই করে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের কাছে চাহিদাপত্র দিয়েছি। সহায়তা আসলেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হবে। তবে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।