বদরগঞ্জে চেয়ারম্যানের গুদামে দুস্থের চাল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

বদরগঞ্জে চেয়ারম্যানের গুদামে দুস্থের চাল

রংপুর অফিস ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ০৭, ২০১৯

print
বদরগঞ্জে চেয়ারম্যানের গুদামে দুস্থের চাল

রংপুরের বদরগঞ্জে চেয়ারম্যানের গুদাম থেকে দুস্থদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) ১৯৭ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নবীরুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের কলেজিয়েট স্কুল সংলগ্ন তছলিমা চালকল থেকে ওই চাল উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় গোবিন্দ সরকার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক মানিক বলেন, আমার বরাদ্দের চাল এরই মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আর যেখানে চাল পাওয়া গেছে চাতালটি আমার হলেও গোবিন্দ সরকার নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়েছি। তিনি চালগুলো কোথায় থেকে এনেছেন, সেটা তার বিষয়। ওই চাল আমার নয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ ও রমজান উপলক্ষে উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নে ৪৬১৭ জন দুস্থ ও গরিব মানুষের জন্য ৬৯ টন ২৫৫ কেজি ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রত্যেক কার্ডধারী চাল পাওয়ার কথা ১৫ কেজি করে। এরই মধ্যে গত শুক্র ও শনিবার ওই চাল বিতরণ শেষ করেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল হক মানিক। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কিছু গরিব মানুষকে চাল না দিয়ে ভুয়া তালিকা তৈরি করে চালগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তার চাতালে মজুদ করে রাখেন।

চালের বস্তায় লেখা রয়েছে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তরের সিল দেওয়া প্রতি বস্তার ওজন ৩০ কেজি। প্রতিটি বস্তায় ২০১৯ সালের সিল দেওয়া রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নবীরুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধার করা চালগুলো ভিজিএফের। এ ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাক তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। গরিবের চাল আত্মসাৎকারী কেউ ছাড় পাবে না। তবে আটক গোবিন্দ সরকার স্বীকার করেছে চালের বস্তাগুলো ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক মানিকের।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে। গোবিন্দ সরকার স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন, চালগুলো ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক মানিকের।