ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৯ মাঘ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

‘খাদের কিনারে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ’

সুদীপ্ত শামীম, সুন্দরগঞ্জ
🕐 ১০:০৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০২২

‘খাদের কিনারে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, খাদের কিনারে চলে যাচ্ছে দেশ। খাদের কিনারে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। ভবিষ্যৎ খাদের কিনারে চলে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। খাদের কিনারে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

আমাদের ব্রিজ থাকবে, সেই ব্রিজে টোল দিয়ে যাওয়ার জন্য মানুষের হাতে অর্থনীতি থাকবে না। এই অর্থনীতিকে উত্তরণ ঘটাতে হবে। বিপ্লব করতে হবে, সেই বিপ্লব কি হবে? পরাধীন দেশে বিপ্লব হয় যুদ্ধের মাধ্যমে, জেলে যাওয়ার মাধ্যমে। স্বাধীন দেশে বিপ্লব হলো সঠিক ভোটের বিপ্লব। সুন্দরগঞ্জের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে, তারা ভোট দিতে পারে। তারা সরকারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে সঠিক লোককে নির্বাচিত করেছে বারবার।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৮ দিকে সুন্দরগঞ্জ ডিড রাইটার (ডি.ডব্লিউ) সরকারি কলেজ মাঠে সুন্দরগঞ্জ পৌর জাতীয় ছাত্র সমাজ, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি ও মহিলা পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী আওয়ামী লীগ-বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দেশ একটি ক্রান্তিলগ্নের মধ্যে আছে। দুটি দল দ্বন্দ্বময়। ১০ ডিসেম্বর কোথায় হবে সম্মেলন সোরওয়ার্দী উদ্যানে হবে না নয়া পল্টনে হবে। এই নিয়ে দুটি দল তীব্র তীর্জক বাক্যবানে তারা নিমজ্জিত হয়ে আছে। তেলের দাম বাড়ছে, লবণের দাম বাড়ছে, টাকার মান কমছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমছে। চাকরি নাই, ঢাকা শহরে ট্রাফিক সমস্যা। মেগা প্রজেক্টগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্ত জাতীয় ইস্যু থেকে সামান্য কোথায় সম্মেলন হবে সেটা নিয়ে তারা বাক্যবানে লিপ্ত হয়ে আছে। আজকে দেশের মানুষের জন্য কথা লোকের অভাব। দেশের মানুষের জন্য চিন্তা করার লোকের অভাব। এসব উত্তরণে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে, জাতীয় পার্টিকেই ভূমিকা পালন করতে হবে।

সুন্দরগঞ্জ পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুর রশীদ রেজা সরকার ডাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি আরও বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু খুব কষ্ট নিয়ে বলেছিলেন, আমি সারাবিশ্ব থেকে টাকা নিয়ে আসি, গম নিয়ে আসি, চাল নিয়ে আসি। আর চাটার দল এসব লুটপাট করে খায়। চাটার দল তখনো ছিল, এখনো আছে। আজকের চাটার দল গম-চাল চুরি করে না। এই চাটার দল সম্পুর্ন ব্যাংক গিলে ফেলে। এই সরকার ব্যাংক গিলে খাওয়ার সরকার। দিন দিন দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই সরকার লুটপাটের প্রশ্রয় দেওয়ার সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা আছে৷ তবে তার পাশের যে ব্যবসাতন্ত্র আছে, যে ব্যবসায়ীক ধনিকতন্ত্ররা দেশটাকে আঁড়কে কুড়ে খাচ্ছে। একটা দল ছিল যারা ২০০৪ সালে বিদ্যুতের জন্য অনেকগুলো খাম্বা তৈরি করেছিলো। এই খাম্বার জন্য তখন হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে গেছে। আর এই সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করলো, খাম্বা তৈরি করলো না৷ সেই বিদ্যুৎগুলো ক্যাপাসিটি চার্জের জন্য ৮৯ হাজার কোটি টাকা সরকারকে ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। এসব জনগণের টাকা, আমাদের টাকা। এখনো বিশ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ বাকি আছে দুই বিলিয়ন। এ সমস্ত দায় যখন মিটানো হবে তখন আমাদের কত রিজার্ভ থাকবে আমরা জানিনা।

ব্যারিস্টার শামীম এমপি অর্থমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমাদের মানুষের শঙ্কা; কাগজ কেনার টাকা থাকবে কি না। ওষুধ কেনার টাকা থাকবে কি না, কৃষি পণ্যের টাকা থাকবেনা কি না। দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা অর্থ মন্ত্রীকেও এসব নিয়ে কোন বক্তব্য দিতে দেখিনা। এ দেশে অর্থ মন্ত্রী আছে কিনা সেটাও আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা অপেক্ষা করি দেশের অর্থনৈতিক সংকটে অর্থ মন্ত্রী কি বলে। শুনতে পেরেছি অর্থ মন্ত্রী নাকি অফিসেই করেন না। দেশ চলবে কিভাবে, জাতি চলবে কিভাবে। পরিত্রাণ হবে কিভাবে। জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে আসতে হবে। জিএম কাদের দেশের স্বার্থে কথা বলেছিলেন, জনগণের স্বার্থে কথা বলেছিলেন। জিএম কাদের এদেশকে বাচাঁনোর চেষ্টা করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ জিএম কাদেরের নেতৃত্বে সামনে জাতীয় পার্টি বিশাল একটি শক্তিশালী দলে পরিণত হবে।

পৌর কাউন্সিলর শাহিন প্রামাণিকের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল হোসাইন, আনছার আলী সরদার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মন্ডল, যুগ্ম-সম্পাদক কওছর আযম হান্নু, বেলকা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি রেজাউল ইসলাম রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি সরোয়ার হোসেন বাবু, যুব সংহতির সভাপতি সাইদুর রহমান, ছাত্র সমাজের সভাপতি শাহ্ সুলতান সরকার সুজন, মহিলা পার্টির সভাপতি আক্তার বানু ইতি, অটোশ্রমিক পার্টির সভাপতি রিপন মিয়া, কৃষক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব খায়রুজ্জামান লিটন, পৌর ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক সুমন মহন্ত প্রমূখ।

সম্মেলনে দ্বিতীয় পর্বে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি ছাত্র সমাজের সভাপতি ড্যানিস সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি সুমন চন্দ্র মহন্ত, সাধারণ সম্পাদক ইমন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সরকার। পৌর যুব সংহতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক নয়ন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ রয়েল। স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি লেলিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিজু সরকার। মহিলা পার্টির সভাপতি আলেয়া বেগম, সাধারণ সম্পাদক মল্লিকা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক মিনারা বেগমকে পৌর জাতীয় ছাত্র সমাজ, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি ও জাতীয় মহিলা পার্টির কমিটি ঘোষণা করেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

 
Electronic Paper