২৫ বছরেও মেরামত হয়নি ভাঙা সেতু

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫

২৫ বছরেও মেরামত হয়নি ভাঙা সেতু

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

print
২৫ বছরেও মেরামত হয়নি ভাঙা সেতু

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া সেতুটির অর্ধেক অংশ ভেঙে গেছে প্রায় ২৫ বছর আগে। এরপর থেকে ভাঙা অংশে কোনোরকম সাঁকো তৈরি করে চলাচল করলেও সংস্কার করা হয়নি সেতুটি। এতে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বলদিয়া বাজার সংলগ্ন সোনাহাট ছড়া থেকে প্রবাহিত হয়ে দুধকুমার নদে মিলিত মরা শংকোষ নদীতে ১৯৯১ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থে ৬০ ফুট সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি চালু হওয়ার পর বলদিয়া বাজার এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্বল্প সময়ে  উপজেলা সদরে যাতায়াত  করত।
তবে ১৯৯৩ সালের আকস্মিক বন্যায় সেতুটির পশ্চিম পাশের অংশ ভেঙে যায়। সেতুটির একটি অংশ ভেঙে গেলেও দীর্ঘদিনেও তা মেরামত না করায় এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে। প্রতি বছরই স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রম ও অর্থ দিয়ে সেতুটির ভাঙা অংশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করে আসছিল। কিন্তু গত বছরের বন্যায় সেতুটির ভাঙা অংশে গভীর খালের সৃষ্টি হওয়ায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী সেতুটির সামান্য উত্তরে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পারাপার হচ্ছে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু মণ্ডল, ব্যবসায়ী চাঁন মিঞা, শিক্ষক আতাউর রহমান মাস্টার জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর পশ্চিম পাড় থেকে প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাজারে আসলেও তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারছে না।
ব্যবসায়ীরা সেতুটির পশ্চিম পাড় থেকে পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থার না থাকায় বিভিন্ন মৌসুমি সবজি ধান, গম, বাঁশ কিনতে যায় না। এতে এলাকাবাসী যাতায়াতে দুর্ভোগসহ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেতুটি মেরামত করলে এলাকার ব্যাপক উন্নতিসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু মেরামত ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সেতুগুলো মেরামতের কাজ শুরু করা যাবে।’