চাকুরি হারিয়ে সদা হাস্যেজ্জ্বল পরিবারটি এখন দিশাহারা

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

চাকুরি হারিয়ে সদা হাস্যেজ্জ্বল পরিবারটি এখন দিশাহারা

সুদীপ্ত শামীম, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
🕐 ৮:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২২

চাকুরি হারিয়ে সদা হাস্যেজ্জ্বল পরিবারটি এখন দিশাহারা

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা শফিউল ইসলাম। বয়স প্রায় ৫৫ বছর। যখন টগবগে যুবক, তখন অভাবের সংসারে হাল ধরতে হয়েছে তাকে। জীবিকার তাগিদে আনসার ব্যাটালিয়নে যোগ দেন। এখানে দীর্ঘদিন চাকুরি করে হাসি ফুটেছিল অভাবি পরিবারটির। ভালোই কাটছিলো সংসার। বিধিমাম! সেই হাসি যেন ম্লান হয়েছে সবার। এরই মধ্যে শফিউল চাকুরিচ্যুতি হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এখন দারিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে কোনমতো বেঁচে রয়েছে তার পরিবারের ৫ সদস্য।

সরেজমিনে শনিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের তারাপুর গ্রামে দেখা যায় ওই পরিবারটির চরম হতাশার দৃশ্য। সবাই যেন অভাবের তাড়নায় ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে। এসময় কারও চোখে পানিও ঝড়ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে শফিউল ইসলাম। আনসার ব্যাটালিয়ন রাঙ্গামাটির শিলছড়ি সদর দপ্তরে চাকুরিরত অবস্থায় ২০০৪ সালে জুনের ৩ তারিখে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে। ছুটি শেষ হওয়ার পুর্বমুহূর্তে অসুস্থ হয়ে পড়ে তিনি। এরপর কিছুটা সুস্থ হয়ে ওই সালের ১৯ আগস্ট তার কর্মস্থলে যোগদান করে। এরই মধ্যে বিনানুমতিতে অতিরিক্ত অতিরিক্ত অনুপস্থিতির কারণ দর্শানো নোটি প্রাপ্ত হন।

শফিউল তার সন্তোষজনক জবাব দাখিলের পর কর্তৃপক্ষ বিনা বেতনে ৫৮ দিন ছুটি মঞ্জুর করে। এরপর থেকে যথারীতি দায়িত্ব পালন করাকালে হঠাৎ তাকে চাকুরিচ্যুতি করা হয়। বাধ্য হয়ে আনসার মহা পরিচালকের বরাবর আপিল করা হলেও অদ্যবদিও কোন জবাব মেলেনি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চলতি বছরের জানুয়ারির ৩ তারিখে চাকুরি পুণ:বহালের জন্য আবেদন করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তি একাধিকবার তদন্ত করলেও কোন ফলশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায় প্রায় দেড়যুগ ধরে শফিউল ইসলাম চাকুরিচ্যুতি হয়ে পরিবারের মা-স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দুর্বীষহ জীবনযাপন করছে। শুধু তায় নয়, মাত্র ৪ শতক জমিতে ঘরবাড়িতে কোনমতো বসবাস করে চলেছে। এছাড়া অন্য কোন সহায় সম্বল নেই তার। যেন নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থায় জীবন সংগ্রাম অব্যাহত।

স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তি বলেন, 'চাকুরি করাকালীন শফিউলের সংসারটি ভালোই চলছিল। এরই মধ্যে চাকুরিচ্যুতি হয়ে খুব কষ্টে রয়েছে তারা।'

এ বিষয়ে ভুক্তভোগি শফিউল ইসলাম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, 'অহেতুকভাবে চাকুরি হারিয়ে এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। আমাকে পুণ:রায় চাকুরি ফিরে দিলে হয়তো পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন যোগান দিতে পারবো। নয়তো মরা ছাড়া কোন উপায় নেই।'

আনসার ও ভিডিপির গাইবান্ধা জেলা কমাড্যান্ট (চলতি দায়িত্ব) রেজাউল ইসলাম (পিভিএম) বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবো।'

 
Electronic Paper