সুইচ বোর্ড ভেঙে ফেলায় শিক্ষার্থীকে মারধর

ঢাকা, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২ | ২০ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সুইচ বোর্ড ভেঙে ফেলায় শিক্ষার্থীকে মারধর

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
🕐 ৭:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০২২

সুইচ বোর্ড ভেঙে ফেলায় শিক্ষার্থীকে মারধর

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শ্রেণি কক্ষে বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের সুইচ বোর্ড ভেঙে ফেলার অপরাধে মো. মামুন মিয়া নামের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রকে বেধরক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে এ মারধর করেন। ইতোপূর্বেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পেটানোসহ ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গুরুতর আহত শিক্ষার্থী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। প্রধান শিক্ষকের এ ধরণের আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী। শিক্ষার্থী মামুন মিয়া উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে ও পুটিমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর বিদ্যুতের সুইচ বোর্ড কয়েকদিন আগে বন্ধুরা মিলে ভেঙে ফেলে মামুন মিয়া। বিষয়টি জানতে পেরে শ্রেণি শিক্ষক তাকে শাসন করে। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক জানতে পেরে মামুনকে তার নিজ রুমে ডেকে নিয়ে দরজার পর্দা নামিয়ে দিয়ে বেতের কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক বেত্রাঘাত করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন যায়গা ফুলে যায়। পরে তার স্বজনরা খবর তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

শনিবার সকালে আহত শিক্ষার্থী মামুন মিয়া বলেন, 'বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষে কয়েকজন বন্ধু মিলে ক্লাসরুমেই আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় এক বন্ধু আমাকে ধাক্কা দেও। আমি ধাক্কা সামলিয়ে উঠতে না পেরে সুইচ বোর্ডে লাগানো দেওয়ালে পড়ে যাই। এসময় সুইচ বোর্ডটির কিছু অংশ ভেঙে যায়। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক স্যার জানতে পেরে আমাকে তার রুমে ডেকে নিয়ে দরজার পর্দা নামিয়ে কঞ্চি দিয়ে আমাকে বেত্রাঘাত করতে থাকে। এসময় হেড স্যার আমার গলাও চেপে ধরেছিলেন।'

আহত শিক্ষার্থীর মা আজেকা বেগম বলেন, 'স্কুলের পিয়নকে দিয়ে হেড স্যার ডেকে নেন এবং বলেন আপনার ছেলে দুষ্টমি করেছে। বাসায় শাসন করবেন। ছেলেকে না দেখিয়ে আমাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে স্কুল ছুটি শেষে ছেলে বাড়িতে আসলে দেখি তাকে মারধর করা হয়েছে। আমি বা তার বাবা কোনদিন বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলিনি। ছোট বাচ্চা ভুল করতেই পারে। শাসন না করিয়ে এভাবে মারধর করবে প্রধান স্যার তা কোনদিন ভাবিনি।'

ঘটনার সময় ওই শ্রেণি কক্ষে থাকা সহকারী শিক্ষক শামছুল হক বলেন, 'ক্লাসরুমের সুইচবোর্ড ভেঙে ফেলার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করি। তারা কেউ স্বীকার হচ্ছিলেন না। পরে হেড স্যারের শরণাপন্ন হই। তখন প্রধান শিক্ষক ক্লাসরুমে এসে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক ছাত্রী সুইচবোর্ড ভেঙে ফেলার বিষয়ে মামুনের নাম উল্লেখ করে। তখন প্রধান শিক্ষক মামুনকে তার রুমে নিয়ে যায়। পরে কি হয় তা আমি জানিনা।'

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী এ বিষয়ে বলেন, 'পারিবারিক সমস্যার কারণে খোঁজ নিতে পারিনি। তবে শুনেছি কারেন্টের সুইচবোর্ড ভেঙ্গে ফেলার কারণে বাচ্চাটিকে মারধর করেছে প্রধান শিক্ষক। শুনেছি ওই ছেলেটা দুষ্ট প্রকৃতির।'

তবে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল আমিন সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন না ধরে কেটে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুঃ মাহমুদ হোসেন মন্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীদের মারধর করাটা ঠিক নয়।’

 

 
Electronic Paper