ত্রাণের বাহিরে গাইবান্ধায় তিন-পঞ্চমাংশের বেশি পরিবার

ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ত্রাণের বাহিরে গাইবান্ধায় তিন-পঞ্চমাংশের বেশি পরিবার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
🕐 ৯:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২২

ত্রাণের বাহিরে গাইবান্ধায় তিন-পঞ্চমাংশের বেশি পরিবার

গাইবান্ধায় গেল এক সপ্তাহের বন্যায় চার উপজেলার ২১ হাজার ৮৩৪ পরিবারের ৬১ হাজার ৫১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু ত্রাণের চাল পৌঁছেছে মাত্র আট হাজার পরিবারের কাছে। বাকী রয়েছে আরও ১৩ হাজার ৮৩৪ পরিবার। যা এখনো পাঁচ ভাগের তিন ভাগের বেশি পরিবার ত্রাণের বাহিরে রয়েছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজন চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন। বন্যায় অনেকে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের গত ২২ জুনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নের সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৮৩৪ পরিবারের ৬১ হাজার ৫১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সাঘাটা উপজেলায়, আট হাজার ৭৬০ পরিবারের ৩৫ হাজার ৪০ জন। সূত্রটি আরও জানায়, বন্যাকবলিতদের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৬০৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২২ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য ক্রয়ের জন্য ১৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, গো-খাদ্য ক্রয়ের জন্য ৩৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

এর মধ্যে বন্যাকবলিত চার উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৬ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য ক্রয়ের জন্য ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গো-খাদ্য ক্রয়ের জন্য ১৬ লাখ টাকা ও ২৫৫ প্যাকেট শুকনা খাবার। মজুদ রয়েছে ৫২৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৬ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য তিন লাখ ৪৩ হাজার টাকা ও গো-খাদ্যের জন্য ২১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

এতো বিপুল পরিমাণ চাল ও গো-খাদ্যের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা মজুদ থাকলেও তা বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোয় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। তবে বরাদ্দের নগদ টাকায় শুকনা খাবার, তাঁবু, পলিথিনসহ অন্যান্য উপকরণ কিনে দেওয়া হয় বন্যার্তদের মধ্যে। ত্রাণ পাওয়া প্রত্যেক বন্যাকবলিত পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, চলতি বন্যায় ২ মেট্রিক টন চাল পেয়েছি। তা নদীভাঙনের শিকার ২০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় এক হাজার ৫০০ পরিবারকে এখনো কোন ত্রাণ (চাল) দিতে পারিনি। অথচ আমার ইউনিয়নে আরও ত্রাণের চাল দরকার। চেয়েও তা পাচ্ছিনা।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ১০ মেট্রিক টন চাল পেয়েছি। তা বন্যাকবলিত এক হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কিছু শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্য পেয়েছি তা ধাপে ধাপে বিতরণ করা হচ্ছে। অনেক পরিবারের সদস্য দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজে-কর্মে থাকায় এখানকার মানুষের আর্থিক অবস্থা ভালো। তাই তাদের মধ্যে ত্রাণের চাহিদা নেই।

এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তাই এখন কোন ইউএনওই আর ত্রাণের চাহিদা দেননি। ইউএনওরা ত্রাণের চাহিদা দিলে তখন আমরা বরাদ্দ দেব। বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের ত্রাণের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বাকী থাকে অবশ্যই তাদেরকে ত্রাণ দেওয়া হবে।

 
Electronic Paper