ভাঙ্গন রক্ষায় কোটি টাকার কাজ শুরু

ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ভাঙ্গন রক্ষায় কোটি টাকার কাজ শুরু

নির্মল রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
🕐 ৯:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২২

ভাঙ্গন রক্ষায় কোটি টাকার কাজ শুরু

তিস্তা ও ঘাঘট নদীর ভাঙ্গন রক্ষায় তড়িঘড়ি করে প্রায় কোটি টাকার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে ঘরবাড়ি-ফসলী জমি রক্ষায় ৪টি আলাদা কার্যাদেশের মাধ্যমে পৃথক স্থানে নদীর এক হাজার ৪৯ মিটার তীর রক্ষা কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভাঙ্গন এলাকা থেকেই শ্যালো মেশিন দিয়ে জিও ব্যাগের জন্য বালু উত্তোলন করছে ঠিকাদাররা। এতে করে নদী ভাঙ্গন রোধ তো দুরের কথা, ভাঙ্গন আরও প্রকট হওয়ার শংঙ্কা তাদের।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর ও নীলফামারী জেলায় বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় ঘাঘট নদীর বামতীরে ৭৯ মিটার অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেলে ওই এলাকার ৪০ থেকে ৫০টি ঘরবাড়ি, গ্রামীন রাস্তা, মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে এমন শংঙ্কায় চৌধুরীপাড়ায় ১৭৫ কেজি ওজনের বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার মাধ্যমে আপদকালীন প্রতিক্ষামূলক কাজ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

তিস্তা নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনজনিত কারণে গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনার চরে বসতবাড়ি, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অনেক অবকাঠামো ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙ্গন এলাকা রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধ বিনাবিনার চরে তিস্তার বামতীরে ৫৮৫ মিটার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা বাঁশ-বল্লি স্পার নির্মাণের মাধ্যমে আপদকালীন প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

গঙ্গাচড়ার সদর ইউনিয়নের গান্নার পাড় এলাকায় তিস্তার ডানতীরে ভাঙ্গন রোধে ১১০ মিটার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা বালি ভর্তি জিও ব্যাগ, ফিলিং-ডাম্পিং ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। কোলকোন্দ ইউনিয়ের বিনাবিনার চরে আরেকটি ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে ২৭৫ মিটার এলাকা ভাঙ্গন রক্ষায় জিও টিউব ও ২৫০ কেজি ওজনের বালি ভর্তি জিওব্যাগ সরবরাহ, ফিলিং ও ডাম্পিং এর মাধ্যমে জরুরী আপদকালীন প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য ২৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এদিকে শুস্ক মৌসুমে তিস্তা-ঘাঘট নদী শাসনে স্থায়ী উদ্যোগ না নিয়ে বর্ষায় তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ফেলার প্রতিযোগিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষরা। তাদের অভিযোগ, নদী ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগের জন্য দূরবর্তী স্থান থেকে বালু উত্তোলণের কথা থাকলেও ঠিকাদাররা বিনবিনা ও গান্নারপাড়ের ভাঙ্গন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগে ভরে তা আবার ভাঙ্গন এলাকায় ফেলছে। এতে করে নদী ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

বিনবিনার চরের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, হামরা কতদিন ধরি নদীর পাড়োত বান্ধ চাইতোছি, কিন্তু সরকার হামাক একটা বান্ধ করি দেয় না। পানির দিন আসলে ওমরা তড়িঘড়ি করে বালুর বস্তা ফেলায়া টাকা কামাই করে। চরের মাইষের নাম ভাঙ্গায়া ওমরা তাজা হওছে, আর হামরা পানিত ডুবতোছি। কন্ট্রাক্টর ভাঙ্গন এলাকা থ্যাকি বালু তুলে আবার বস্তাত ভরি নদী ফেইতোছে। এইটা করি নদী ভাঙ্গন তো কমবার ন্যায়, আরও নদী ভাঙ্গবে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা ও স্থ’ানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের অনুরোধে গঙ্গাচড়া উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বসতবাড়ি, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অবকাঠামো রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবে বেতগাড়িতে ঘাঘট নদীর ভাঙ্গন রোধে কাজের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দের বিনবিনার চর, সদর ইউনিয়নের গান্নারপাড়ার ও মহিপুর এলাকায় ভাঙ্গন রোধে বেশ কয়েকদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। ভাঙ্গন এলাকা থেকে জিও ব্যাগের জন্য কেউ বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
Electronic Paper