তিস্তায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ

ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

তিস্তায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ

আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
🕐 ৯:০১ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২২

তিস্তায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ

উজানের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ী ঢালে তিস্তার ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমিনরহাটে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত তিনদিন ধরে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ী। পরিবারগুলো ঘরবাড়ী হারিয়ে বিভিন্ন বাঁধে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে হাতীবান্ধার দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৫২.৬০ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ০০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্বাভাবিক( ৫২.৬০) সেন্টিমিটার। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসফাউদ দৌলা ঢাকা প্রকাশ-কে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ধরলা নদীর পানি শিমুলবাড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সে. মি নিচে রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার সন্ধায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিাত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি ৫২.৯০ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২.৬০) যা বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে বানভাসি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে গত সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর লালমনিরহাট সদর এবং আদিতমারী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

জানাগেছে, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী,দোয়ানী,ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া,হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, বাহাদুরপাড়া, গোবরধন, চন্ডিমারী, আরাজিছালাপাক ও সদর উপজেলার কালমাটি, খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা,কুলাঘাট, মোগলহাট, বড়বাড়ি, রাজপুর, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর পানি প্রবেশ করায় ১৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে এখানকার অধিকাংশ লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিনি আরো বলেন,পানিবৃদ্ধির সাথে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ২ নং ও ৩ নং ওয়ার্ডের চর সিন্দুর্না এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। গত ৭ দিনে প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। উপজেলার চরসিন্দুর্না গ্রামের জরিনা খাতুন (৪০) জানান,তিস্তার পানি এসে ঘরবাড়ীর সবকিছু ভেসে গেছে। কিছু মালামাল আটক করে নৌকায় করে এপারে নিয়ে এসেছি। মুরগি ছাগল সবকিছুই ভেসে গেছে। জায়গা জমি নাই। স্থানীয় হাটখোলায় বাজারে মানুষের জমিতে আশ্রয় নিয়েছি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর বলেন, বন্যা কবলিত জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৫০ মেঃ টন চাল,১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা,শুকনো খাবার ও শিশু খাদ্য বরাদ্দ হয়েছে তা বিতরণ কার্যক্রম শেষের দিকে। বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ দৌলা বলেন, গত সোমবার থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করে বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিস্তাপারের মানুষদের নিরাপদ স্থাানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

 
Electronic Paper