‘গাড়ল’ বদলে দিচ্ছে খামারিদের জীবন

ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

‘গাড়ল’ বদলে দিচ্ছে খামারিদের জীবন

আসাদুল্লাহ আহমদ, গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
🕐 ৫:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২২

‘গাড়ল’ বদলে দিচ্ছে খামারিদের জীবন

গাড়ল হচ্ছে ভেড়া জাতের প্রানী। ভেড়ার জাত প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে। নতুন শংকর জাতের ভেড়া (গাড়ল) পালনে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে অনেকের। খরচ কম, বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন গাড়ল (উন্নত জাতের ভেড়া) পালনে আগ্রহ বেড়েছে খামারিদের। 

অনেকে সফলতা পেয়েছে তাই গাড়ল (ভেড়া) পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এলাকার অনেক বেকার যুবক। গাড়ল (উন্নত জাতের ভেড়া) পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে চাঁপাইনবাবঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের শীষ মোহাম্মদ, জিহাদ, ইমদাদুল,মন্জুর হক সহ আরো অনেক খামারী।

খামারি শীষ মোহাম্মদ জানান,, ভেড়া পালনের আগে তার সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। তিনি প্রায় ৭ বছর আগে তার বাড়ির পাশের খামারি ইমদাদুল হকের গাড়ল খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হন। সেখান থেকে তিনি ২৮টি মা গাড়ল ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় কিনে বাড়িতে পালন শুরু করেন। এখন তার খামারে ১০০টির অধিক গাড়ল রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারিরা এসে তার কাছ থেকে গাড়ল ভেড়া কিনে নিয়ে যায়। এখন তিনি মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন। তার ভালো আয় রোজগার হওয়ায় এখন তার সংসারে সচ্ছ্বলতা ফিরে এসেছে। এখন তিনি স্বাবলম্বী। গাড়ল ভেড়া পালনেই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে।

তিনি আরো বলেন, গাড়ল ভেড়ার মাংস গন্ধমুক্ত সুস্বাদু। পুষ্টিগুণেও ভালো। দেশের দক্ষিণবঙ্গে গাড়লের মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। একজন খামারি ৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে খরচ বাদে গাড়ল খামার থেকে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। গাড়ল ভেড়াকে মাঠে ছেড়ে দিয়ে প্রাকৃতিক খাবার মাঠের ঘাস, লতাপাতা খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে পালন করা যায়। রোগবালাই খুব কম। একটি গাড়ল বছরে দুবার ১/২টি বাচ্চা দেয়।

খামারি জিহাদ আলী বলেন, ৩ বছর আগে আমি বিদেশে ইউটিউবে দেখতাম ভেড়া পালন কি ভাবে করতে হয়? এরপর আমি দেশে এসে ইউটিউব দেখে ভেড়া পালন শুরু করি। এখন আমি ভেড়া পালন করে অনেক কিছু করতে পেরেছি। আমার দেখা অনেক বেকার যুবক এখন ভেড়া পালন করে লাভের মুখ দেখে ভালোভাবে দিনযাপন করছে। তাই তিনি শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন তোমরা চাকরির পেছনে বেকার না ঘুরে গাড়ল প্রজাতির ভেড়া পালন করো দেখবে অল্পতেই স্বাবলন্বী হয়ে যাবে। এ ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় উপজেলায় দিন দিন খামারিরা গাড়ল পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. কাওসার আলী জানান, উপজেলায় ১৭জন খামারি প্রায় ১৫০০ গাড়ল প্রজাতির ভেড়া পালন করছে। তুলনামূলক গৃহপালিত অন্য প্রাণীর চেয়ে গাড়লের রোগবালাই কম, দ্রুত মাংস বৃদ্ধি পাই, মাংসে চর্বি কম ও লাভজনক হওয়ায় গাড়ল পালনে অনেকে এগিয়ে আসছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গাড়ল প্রজাতির ভেড়া পালনে চিকিৎসাসেবা, পরামর্শসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে খামারিদের।

 

 
Electronic Paper