সরিষায় ম ম নন্দীগ্রাম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সরিষায় ম ম নন্দীগ্রাম

এক্কাবর হোসেন, নন্দীগ্রাম (বগুড়া)
🕐 ৩:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০২১

সরিষায় ম ম নন্দীগ্রাম

বগুড়ার নন্দীগ্রামে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। ভোজ্যতেলের দাম বাজারে বেশি থাকায় অধিক লাভের আশায় উপজেলার কৃষকরা এবার বোরো আবাদের আগে ব্যাপকহারে সরিষার আবাদ করেছেন।

 

হেমন্তের শেষ দিকে উত্তরের হাওয়ায় ইতোমধ্যে নন্দীগ্রামে জেঁকে বসেছে শীত। এরই মধ্যে মাঠে মাঠে শোভা বাড়াচ্ছে সরিষা ফুল। গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে ঝিলিক দিচ্ছে সরিষা ফুলের সোনালি হাসি। সুবাসে ম ম পুরো এলাকা। ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছির ঝাঁক। দুচোখ জুড়ানো এমন দৃশ্য আকৃষ্ট করছে সবাইকে।

উপজেলার চাষিরা জানায়, অন্য যে কোনো আবাদের চেয়ে সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম লাগে। তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সরিষার ফলন পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকূলে আছে তাই সরিষার চাষ বেশি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার মাটি সরিষা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৪ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। উপজেলার কৃষকরা তাদের অধিকাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বিনা-৪ বিনা-৯, বিনা-১১ ও স্থানীয় টরে-৭ ও সম্পদ জাতের সরিষা আবাদ করেছেন।

উপজেলার হাটুয়া আলাইপুর গ্রামের কৃষক সাবেক মেয়র সুশান্ত কুমার শান্ত বলেন, আমি এবার ৭৫ বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার চাষ করেছি। সরিষা চাষে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়- জমি চাষ ৬০০ টাকা, সরিষা বীজ ১ কেজি ১৪০ টাকা, এমপিও সার ২০ কেজি ৪৫০ টাকা, ডিএপি ৪০ কেজি ৮০০ টাকা, ইউরিয়া ৫০ কেজি ৮২০ টাকা, জিপসাম ২০ কেজি ১৫০ টাকা, বোরণ ১ কেজি ১৩০ টাকা, কীটনাশক (দানাদার) ১ কেজি ১৫০ টাকা, কীটনাশক (তরল) ২০০ টাকা, কাটা-মাড়াই ৭০০ টাকা। মোট প্রতি বিঘা জমিতে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন আসবে বিঘা প্রতি ৮ থেকে ৯ মণ। যার বাজার মূল্য ২০ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা।

উপজেলার দলগাছা গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, এ বছর আমি বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। সরিষার গাছ খুব ভালো হয়েছে। গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে। সরিষা চাষ লাভজনক। তাছাড়া সরিষার জমিতে ধানের আবাদও ভালো হয় এবং বোরো চাষে খরচ কম হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, নন্দীগ্রামের কৃষকরা ব্যাপকহারে সরিষার আবাদ করেছেন। সরিষা চাষিদের মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সরিষা বপনের মাত্র ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। তাই সরিষাকে কৃষকরা লাভের ফসল হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।

 
Electronic Paper