রউল বিলে মাছ ধরার উৎসব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২ | ৫ মাঘ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

রউল বিলে মাছ ধরার উৎসব

ইকবাল কবীর রনজু, চাটমোহর (পাবনা)
🕐 ৩:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২১

রউল বিলে মাছ ধরার উৎসব

পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী রউল বিলে প্রতি বছরের মতো এবারো পানি কমে যাওয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মাছ ধরার উৎসব।

গতকাল শনিবার শত শত সৌখিন মৎস্য শিকারি এ বিলে পলো, খেয়াজাল, বাদাইজাল, ডোরা জাল, খরা জাল দিয়ে মাছ শিকারে আসেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা শৈল, বোয়াল, গজার, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিভিন্ন রুট হয়ে বাস, ট্রাক, নছিমন, করিমন, ভ্যান, রিকশা, সাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে হাজার হাজার সৌখিন মাছ শিকারি এ বিলে মাছ ধরতে এসেছেন। ঠান্ডা পানিতে নেমে মাছ শিকারের আনন্দ উপভোগ করছেন তারা। হাত পলো, পাও পলো, নেট পলো ছাড়াও খেওয়া জাল, ঠেলা জাল, কারেন্ট জাল, ডোরা জাল, হাত খড়াসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিলেন তারা।

কৃষক, জেলে, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় রউল বিল। মাছ পাওয়া বা না পাওয়া বড় কথা নয়, এ উৎসবে অংশগ্রহণেই আনন্দ বলে জানান সৌখিন মৎস্য শিকারিরা। পলো নিয়ে মাছ শিকারে আসা ইয়াকুব আলী, আনোয়ার হোসেন, নাটোরের গুরুদাসপুরের দক্ষিণ নাড়িবাড়ি গ্রামের আক্কাস আলী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আঙ্গারু গ্রামের আব্দুস সালামসহ অন্য মাছ শিকারিরা জানান, তারা প্রায় প্রতি বছরই রউল বিলের মাছ উৎসবে আসেন।

আটঘরিয়ার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুর রহমান জানান, ‘মাছ ধরা উৎসবে এসে মাছ শিকারের আনন্দ-অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি আরো বলেন, আমি মাছ শিকারের আনন্দ উপভোগের জন্য প্রতি বছর এ সময়টার অপেক্ষায় থাকি।’ বিলের কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি, কোথাও গলা পানি আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি। মাছ শিকারের সময় অপেক্ষাকৃত ছোটরা বিলের পারে এবং বড়রা মাঝের দিকে থাকেন।

কারো পলো বা জালে মাছ পড়লে অন্যরা মাছটি ধরতে তাকে সহায়তা করেন। পলোর মধ্যে মাছ পড়লে পলোর উপরাংশের মুখ দিয়ে পলোর মধ্যে হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরে লোহার ধারালো শিক দিয়ে মাছ ছিদ্র করে মাজায় বেঁধে রাখা নাইলন সুতোর হালচেয় বেঁধে রাখেন মাছ। কখনো কখনো ‘আল্লাহ আল্লাহ রাসুল বলো লা ইলাহা’ এমন সমবেত কণ্ঠস্বর যেন যোগ করে আনন্দের বাড়তি মাত্রা। রুই, কাতলা, আইড়, ষোল, বোয়াল, জাপানি রুই, সিলভার কার্প, মিনার কার্প, বড় টাকিসহ বেশকিছু প্রজাতির মাছ পেতে দেখা যায় মাছ শিকারিদের।

কখনো সারিবদ্ধভাবে কখনো বিশৃঙ্খলভাবে মাছ শিকার করতে করতে সর্পিল গতিতে সামনের দিকে অগ্রসর হন তারা।
মাছ শিকারিদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা গেছে, এবার এ বিলে কম মাছ ধরা পড়েছে। কারেন্ট জাল, চায়না জালের প্রভাবে মাছ কমে যাচ্ছে। অনেকে মাছ পেয়েছেন আবার অনেকে মাছ পাননি। তবে আনন্দটা উপভোগ করেছেন সবাই মিলেই।

 
Electronic Paper