দাঁড়িয়ে আছে পিলার, পাঁচ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ

ঢাকা, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

দাঁড়িয়ে আছে পিলার, পাঁচ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ

সুকুমল কুমার প্রামাণিক, রানীনগর (নওগাঁ)
🕐 ৪:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১

দাঁড়িয়ে আছে পিলার, পাঁচ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সর্বরামপুর-ভবানীপুর চৌতাপাড়া নামক স্থানে রতনডারি খালের ওপর ফুট ব্রিজ নির্মাণ কাজ প্রায় পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। খালের দুই পাড়ে বরাদ্দের সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজের দুটি পিলার তৈরির পর ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ব্রিজটি নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই প্রায় পাঁচ বছর ধরে চোখের সামনে শুধু দাঁড়িয়ে আছে খালের মধ্যে ব্রিজের দুটি (পিলার) খাম্বা। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার প্রায় ১০ গ্রামের জনসাধারণের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে কাশিমপুর-গোনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে রতনডারি খাল। ১৯১৪ সালে কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা ও নৌ চলাচলের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্য এবং পানি প্রবাহ সচল রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী রানীনগরের উদ্যোগে কুজাইল সুইচ গেট থেকে হাতিরপুল হয়ে রক্তদহ বিল পর্যন্ত খাল খনন করা হয়।

বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে বন্যার পানি থৈ থৈ করে। এ সময় পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। যানবাহন চলাচলের কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। তাই এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর-ভবানীপুর চৌতাপাড়ায় একটি ব্রিজ নির্মাণ করা।

স্থানীয়রা জানান, ওই খালের ওপর দীর্ঘদিনেও ব্র্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় এবং যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোনো পথ না থাকায় ওই এলাকার দুই ইউনিয়নের সর্বরামপুর, কাশিমপুর দক্ষিণপাড়া, ভরানীপুর কাজীপাড়া, দুর্গাপুর, ডাঙ্গাপাড়া, কুজাইলসহ প্রায় ১০টি গ্রামের বসবাসরত সাধারণ মানুষ ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের রতনডারি খাল পাড় হতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

স্থানীয় হোসেন আলী, ইমরান, ছোলাইমান, আসলাম আলী, রহিমসহ কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে চোখের সামনে আমরা শুধু ব্রিজের পিলার দেখছি। কিন্তু নির্মাণ কাজের কোনো নমুনা দেখছি না। দীর্ঘদিনেও ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় আশেপাশের মাঠে উৎপাদিত ফসলসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজভাবে ঘরে তোলা ও বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে আমরা বঞ্চিত হয়ে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। আবার ব্র্রিজ না হওয়ায় এমনকি পাশে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের যেতে হচ্ছে বহুপথ ঘুরে। তাই এই অবহেলিত জনপদের জনসাধারণকে এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ কাজটি শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।

কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু জানান, নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য আমি বারবার সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরনা দিয়েছি।

রানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাহ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, যে সময়ে ব্রিজটির কাজ শুরু করা হয়েছিল সেসময় আমি এই উপজেলায় ছিলাম না।

রানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু বলেন, এলাকার জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ওই ব্রিজটির বিষয়ে উপজেলা মিটিংয়ে বারবার তুলে ধরেছি। এখনো এর কোনো সুরাহা হয়নি।

 
Electronic Paper