উকিল বাবার গৃহবধূ ধর্ষণ, সালিশে আড়াই লাখে মীমাংসা!

ঢাকা, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

উকিল বাবার গৃহবধূ ধর্ষণ, সালিশে আড়াই লাখে মীমাংসা!

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
🕐 ১:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২১

উকিল বাবার গৃহবধূ ধর্ষণ, সালিশে আড়াই লাখে মীমাংসা!

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে উকিল বাবা সবুজ শেখের বিরুদ্ধে। ধর্ষিতা ওই গৃহবধু এখন স্বামীর সংসার ও বাড়িছাড়া। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করে বিচারের রায় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কতিপয় মাতবর শিয়ালকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আল-আমিন, মুঞ্জু শেখ, লিপু, আনছার, খালেক, বিশা, মাসুদ, শাহিন, নুরু ও ধর্ষকের পিতা লুৎফর শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত যুবক সবুজ শেখ আত্মগোপনে রয়েছেন।

বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৯ মাস আগে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের দিয়ারবৈদনাথ গ্রামের আসাদুল শেখ ওরফে গুটুর ছেলে সিনবাদের (১৮) সাথে কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চর-রায়পুর (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের আওয়াল শেখের মেয়ে আউলিয়া খাতুনের (১৪) পারিবারিকভাবে বাল্যবিয়ে হয়। বাল্যবিয়ের সময় উকিল বাবা হিসেবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন দিয়ারবৈদনাথ গ্রামের মোঃ লুৎফর রহমানের ছেলে সবুজ শেখ (২১)। এই সম্পর্কের জের ধরে আউলিয়ার বাড়িতে সবুজ আসা-যাওয়া করতো। সেই থেকে আউলিয়ার সাথে উকিল বাবা সবুজের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে গত ১৪ জুলাই সবুজ আউলিয়াকে তার বোনের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে ৬ দিন আউলিয়া ও সবুজ একই ঘরে রাত্রিযাপন করে। সেসময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে সবুজ। তারপর আউলিয়া ও সবুজ দিয়ারবৈদনাথ গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে আসার পর সবুজ আউলিয়াকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আউলিয়া তার স্বামী সিনবাদকে বিষয়টি জানায়। তখন সিনবাদ বউ রাখবে না বলে এলাকার মুরব্বিদেরকে বিষয়টি জানায়।

এ ঘটনায় (গত ২৩ জুলাই) মুরব্বিরা বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে আউলিয়া সবার সমানে উকিল বাবা সবুজের সাথে তার সম্পর্ক হয়েছে বলে স্বীকার করে। সেই কারণে সবুজের সাথে পালিয়ে বিয়ে করার জন্য বগুড়ায় যায়। সবুজ বিয়ে না করলে আউলিয়া আত্মহত্যা করবে হুঁশিয়ারি দেয়।

এলাকাবাসী জানান, আউলিয়াকে বিয়ে করতে কিছুতেই রাজি না হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মুরব্বিদের ম্যানেজ করে তাদের দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে আপোস করার জন্য ব্যাপকভাবে চাপ সৃষ্টি করে সবুজের পরিবার।

গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে প্রভাবশালী লিপুর বাড়িতে ওই গৃহবধূর বাবা আওয়াল শেখকে জরিমানা হিসেবে ১ লক্ষ ৭০ টাকা দিতে সবুজকে এবং বউ না রাখায় স্বামী সিনবাদকে ৮০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। জমিনার টাকা ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া কথার রয়েছে বলে স্থানীয় মুরব্বি লিপু জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় সালিশকারক মনির বলেন, আমরা সালিশে উপস্থিত ছিলাম। তবে আড়াই লক্ষ টাকায় মিমাংসা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিনবাদের বাবা আসাদুল শেখ গুটু অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মুরব্বিরা আমার ছেলেকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। আমি এই বিচার মানি না।

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর বাবা আওয়াল শেখ বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে উকিল বাবা সবুজ। এখন বিচারের নামে আমার মেয়ের সংসার নষ্ট করে দিল স্থানীয় মুরব্বিরা। আমি এখন মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাই।

সদর থানার (ওসি তদন্ত) মো: গোলাম মোস্তফা বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
Electronic Paper