তাড়াশে জীর্ণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ভবন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ৭ বৈশাখ ১৪২৮

তাড়াশে জীর্ণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ভবন

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

print
তাড়াশে জীর্ণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ভবন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থা হয়ে পড়েছে। পাশের স্টাফদের থাকার আবাসিক ভবনও পরিত্যক্ত হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসা নিতে রোগীরা দেখা পান না কর্মরত চিকিৎসকদের।

জানা যায়, ১৯৮২ সালের ২০ ডিসেম্বর নওগাঁ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি পাবনা সিভিল সার্জন ডা. শাহ আমিনুল ইসলাম ও পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক মি. টি এইচ চৌধুরী ভবনটির উদ্বোধন করেন। ভবনটি নির্মাণের পর একবার সংস্কার কাজ করা হলেও বর্তমানে এর অবস্থা খুবই নাজুক। ছাদের ওপর বটগাছসহ অন্যান্য পরগাছা জন্মে তাদের শেকড় ছাদের ভিতরে ঢুকে গেছে।

ভবনের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় অল্প বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে পড়ে। দরজা জানালাগুলোও নড়বড়ে। স্থানে স্থানে পলেস্তরা খসে পড়েছে। ভবনের ছাদের বিভিন্ন অংশ খসে পড়েছে, দরজা-জানালার অবস্থাও খুবই জরাজীর্ণ। যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কা রয়েছে। তবে সেখানে দায়িত্বে রয়েছেন একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা, একজন ভিজিটর, একজন পিয়ন ও একজন আয়া। কিন্তু তারা থাকলেও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এলাকার লোকজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির একতলা ভবনটির প্রধান দরজাটি ভাঙাচোরা, ভিতরে কেউ নেই। একটি রুমে দরজা বন্ধ করে শুয়ে রয়েছেন কর্মরত এমএলএলএস শাহাদত হোসেন। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে নড়েচড়ে বসেন।

এ সময় তিনি বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ আজাদ নেই। এছাড়া অসুস্থজনিত কারণে ছুটিতে রয়েছে আয়া শামসুন্নাহার। আর ভিজিটর আরজিনা খাতুন ঠিকমত অফিস করেন না। তিনি সলঙ্গা থানা সদর থেকে মাঝে মধ্যে আসেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মালিপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, ওষুধ নিতে এসে দরজা বন্ধ দেখে চলে গিয়েছিলাম। পরে আবার এসে ডাকাডাকি করার পর এমএলএলএস শাহাদত হোসেন জানান যে, কেউ নেই ওষুধ দিতে পারব না।

এমন অভিযোগ করেন আব্দুল আলীম, পারভীন খাতুন, সালেহা খাতুনসহ অনেক রোগী বলেন, হাসপাতালে কখনো ওষুধ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ডাক্তাররা ঠিকমত আসেন না।

নওগাঁ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ আজাদ জানান, বিভিন্ন কাজে বাহিরে যেতে হয়। এজন্য অফিসে অনেকেই পায় না। এ ছাড়া ভবনটির অবস্থা ভালো না। তাই সেখানে থেকে অফিস করা যায় না। আবাসিক ভবনটি প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে। সেখানে থাকার উপযোগী নয়।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।