কর্তার চেয়ে অধিক ভোল্ট দালালদের

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

পাঁচবিবি পল্লীবিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস

কর্তার চেয়ে অধিক ভোল্ট দালালদের

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি ৭:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

print
কর্তার চেয়ে অধিক ভোল্ট দালালদের

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পল্লীবিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের চেয়ে অধিক (ক্ষমতা) ভোল্ট এখন দালালদের। অনিয়মই যে অফিসের এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসে সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা দালাল ছাড়া কাজ করতে গেলে মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও কাজের কাজ হয় না। পক্ষান্তরে দালালের মাধ্যমে কাজ হয় বিদ্যুৎ গতিতে।

উপজেলা বাগজানার আবুল কালাম আজাদের ছেলে হানিফ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ছয় হাজার চারশ’ টাকা জমা দেয় একটি পোলের জন্য।

হানিফ বলেন, আমার একটা চার্জার ভ্যান আছে বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্যত্র চার্জ দিতে প্রতিদিন ১২০ টাকা গুণতে হয়। বাড়িতে কারেন্ট নেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করি। একদিন অফিসের লোক দূরত্ব মেপে বলে একটা পোল লাগবে। সে অনুযায়ী টাকা জমা দেওয়ার পর অফিসে যে কতদিন গিয়েছি কোথায় পোল কোথায় বিদ্যুৎ।

বালিঘাটা এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে ছাইফুল ইসলামও একই সময়ে একটা পোলের জন্য আঠারো হাজার চারশ’ টাকা জমা দিয়ে অফিসে ঘুরেও কাজ না হওয়ায় বিদ্যুতের আশা ছেড়েই দিয়েছে। ধাওয়াইপুর গ্রামের শরীফ উদ্দিনের ছেলে কামরুল হোসেনও একই পরিমাণে টাকা রাইছ মিল করার জন্য জমা দিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের বারান্দায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

উপজেলার সীতা গ্রামের একাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ওই গ্রামের নুরল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান ভোল্টেজ বৃদ্ধির আবেদনের কয়েক দিনের মধ্যেই চারটি পোল বসানোর কাজ সমাপ্ত করে বিদ্যুৎ অফিস।

চেয়ারম্যান বরাবর আবেদনে গ্রামবাসী অভিযোগ করেন মেহেদীকে (সেচ) নলকূপের সংযোগ দেওয়ার লক্ষে বিদ্যুৎ অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান মুকুল ও সবুজ পল্লীবিদ্যুৎ পরিচালক রেজাউল করিম এবং ডিজিএম আব্দুল বারী ২ লাখ টাকা চুক্তিবদ্ধর অগ্রিম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণপূর্বক আবেদনের চারদিনের মধ্যেই চারটি পোল বসানোর কাজ শেষ করে। এছাড়া প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যান এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরও অনুলিপি প্রেরণ করে গ্রামবাসী।

পাঁচবিবি পল্লীবিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল বারী বলেন, ওই ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত করেছে। সে কোনো দালাল বা টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানেন না বলেও জানান তিনি।