শিক্ষক যখন দাদন ব্যবসায়ী

ঢাকা, সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১ | ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

শিক্ষক যখন দাদন ব্যবসায়ী

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি ৬:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

print
শিক্ষক যখন দাদন ব্যবসায়ী

এনজিও বা বিভিন্ন সমিতি এমনকি ব্যক্তি বিশেষ অধিক মুনাফার লোভে দাদন বা সুদের ব্যবসা করে আসছে। কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বৈধতা নিয়ে ঋণের অনুকূলে মুনাফা গ্রহণ করে আসলেও অনেক ব্যক্তিরা অধিক লোভের বশীভূত হয়ে অবৈধ পন্থায় দেদারছে সুদের কারবার করে আসছে। সেক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু শ্রেণির শিক্ষকরাও। এমনি দাদন ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শেরপুরের মাগুড়ারতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে।

এদিকে তার দাদন ব্যবসায় সর্বস্বান্ত হয়ে এবং ওই শিক্ষকের দায়ের করা মিথ্যা মামলার হাত থেকে রক্ষা পেতে ১৮ ফেব্রুয়ারি শেরপুর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন খামারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নজরুল ইসলাম।

জানা যায়, দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নজরুল ইসলাম তার পারিবারিক প্রয়োজনে ২০১৩ সালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের কাছ দুই লাখ টাকা ধার নেয়। এর বিনিময়ে তাকে বেতনের চেকবই বন্ধক রেখে প্রতিমাসে সাত হাজার টাকা সুদের অর্থ গুনতে হতো। এভাবে কয়েক বছর চলে আসার পর নিজে সর্বস্বান্ত হওয়ার একপর্যায়ে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে নগদ এক লাখ টাকা ওই শিক্ষককে ফেরত দিয়ে বাকি টাকার জন্য সময় প্রার্থনা করে।

এদিকে সুদের টাকা না পেয়ে দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নজরুলের দেওয়া ফাঁকা চেকের পাতায় ৫ লাখ টাকা লিখে ব্যাংক থেকে ডিজওনার (অযোগ্য) প্রমাণ সাপেক্ষে আদালতে মামলা দেয় দাদন ব্যবসায়ী ওই শিক্ষক। ফলে ওই দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষকের দেওয়া মামলা ও ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী নজরুল। তাছাড়া ওই দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষকের মামলার দায়ভার মাথায় নিয়ে এমনইভাবে সুদের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে পথে ঘুরছেন নৈশপ্রহরী রাশেদুল ও আমিনুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন।

নৈশপ্রহরী নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার চাইলে সে স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেকবই বন্ধক চান। পারিবারিকভাবে টাকার অতিরিক্ত প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে তার প্রস্তাবে রাজি হয়। বিনিময়ে প্রতিমাসে চেকের অনুকূলে সুদের ৭ হাজার টাকা তিনিই ব্যাংক উত্তোলন করতো। এভাবে তিনি কত লাখ টাকা নিয়েছে তার হিসেব করা কঠিন। তারপরে আমার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, নজরুল আমার কাছ থেকে নেওয়া বকেয়া এক লাখ টাকা না দেওয়ায় পাঁচ লাখ টাকার আদায়ের স্বার্থে আদালতে মামলা করেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, একজন শিক্ষক কিভাবে দাদন ব্যবসা করে মানুষকে ঠকাচ্ছে? এটা কোনো নীতি নৈতিকতার মধ্যে পরে!

শেরপুর ইউএনও লিয়াকত আলী সেখ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।