পাথর কুড়িয়ে জীবিকা

ঢাকা, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

পাথর কুড়িয়ে জীবিকা

লাবু হক, রাবি প্রতিনিধি ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

print
পাথর কুড়িয়ে জীবিকা

ভোর ৬টা। মাঘের কনকনে শীত। কুয়াশার চাদরে আবৃত চারপাশ। রোদ নেই, উল্টো মৃদু বাতাস বইছে। বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট স্থলবন্দরের পাশে মহানন্দা নদীতে নিজেদের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত শ্রমিক। নদীর স্বচ্ছ জলে তারা সকলেই পাথর কুড়োচ্ছেন। হিমালয় থেকে উদ্ভূত হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভোলাহাটের কাছে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মহানন্দা নদী। এই নদীতে ভারত থেকে ভেসে আসা পাথর কুড়িয়েই চলে তাদের জীবন। অনেকের এটাই আবার প্রধান জীবিকা।

সম্প্রতি হিমালয়কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি সকালে সূর্য ওঠার আগেই বায়ুভর্তি টিউব, পাথর কাঁধে বহনের জন্য ভাঁড়, আর নিড়ানি হাতে বেরিয়ে পড়েন পাথর কুড়ানো মানুষগুলো। মহানন্দা নদীতে ভোর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লান্তিহীনভাবে পাথর কুড়িয়ে বিক্রি করে ঘুরে তাদের সংসারের চাকা। পাথর শ্রমিকরা জানান, দলবেঁধে তারা পাথর সংগ্রহ করেন। প্রতিটি দলে ৮ থেকে ১০ জন করে পাথর শ্রমিক থাকেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাথর শ্রমিকদের কেউ নদী থেকে লম্বা লাঠি লাগানো নিড়ানি দিয়ে পাথর সংগ্রহ করছেন। তাদের দলের কেউ আবার তা বায়ুভর্তি টিউবে তুলে পানিতে ভাসিয়ে নদীর ধরে নিয়ে আসছেন। কেউ আবার তা সেখান থেকে নামিয়ে নিচ্ছেন। আবার তা কাঁধে করে নদীর উপরে তুলে জমা করছেন কেউ কেউ।

পাথর কুড়িয়েই সংসার চালান মাহমুদ রয়েল। বাংলাবান্ধার স্থানীয় এই পাথর শ্রমিক বলেন, ‘শীত হোক আর গরম হোক প্রতিদিন ভোরে পাথর সংগ্রহ করতে আসি। ফেরার ঠিক সময় নেই। কখনও দুপুর একটায়, কখনও বিকেল তিনটা বা পাঁচটায় বাসায় ফিরি। পাথর কুড়িয়ে দৈনিক ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার হয়। এ দিয়েই আমার সংসার চলে।’

কথা হয় পনের কিলোমিটার দূর থেকে পাথর কুড়াতে আসা আফসার হোসেন আসিফ নামের এক পাথর শ্রমিকের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে সকাল ৬টায় পাথর কুড়াতে আসেন তিনি। পাথর কুড়ান বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ৮ জন মিলে দলবদ্ধ হয়ে তারা পাথর সংগ্রহ করেন। কোনোদিন এক ট্রলি আবার কোনোদিন তারও বেশি পাথর সংগ্রহ করেন তারা। নদীর ধারেই প্রতি ট্রলি সাড়ে ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

পরে এসব পাথর ক্র্যাশার মেশিনে ছোট ছোট করে ভেঙে বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ক্রেতাদের কাছে। যা ব্যবহৃত হয় ছোট বড় অবকাঠামো নির্মাণে কিংবা সড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পে।