প্রাণিসম্পদ দফতরের জনবল সংকট, সেবা বঞ্চিত খামারি

ঢাকা, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

প্রাণিসম্পদ দফতরের জনবল সংকট, সেবা বঞ্চিত খামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক (রাজশাহী) ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

print
প্রাণিসম্পদ দফতরের জনবল সংকট, সেবা বঞ্চিত খামারি

রাজশাহী জেলার প্রাণিসম্পদ দফতরের মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলো রয়েছে জনবল সংকটে। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়ক উপকরণ। ফলে ইচ্ছেমতো খামার গড়ে বিপাকে পড়ছেন খামারিরা। প্রায় ১৪ হাজার গবাদিপশুর খামার গড়ে উঠেছে জেলায়। যেগুলো চলছে হাতুড়ে চিকিৎসকের পরামর্শে। এদিকে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় তারা নজরদারি করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। চাহিদামতো সেবা দিতে পারছেন না খামারিদের। সংকট কাটানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহা. ইসমাইল হক জানান, জনবল সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কাছে জনবল সংকটের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় অফিস থেকে সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর শূন্য পদগুলোতে পদায়নের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, জেলায় সবমিলিয়ে প্রাণিসম্পদ দফতরের ইউনিটগুলোতে ১১৮টি পদের মঞ্জুরি রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৭৪ জন, বাকি ৪০ পদ শূন্য। বিভিন্ন ক্যাটাগরির ছয় পদে জনবল নেই জেলার তানোর উপজেলায়। একই চিত্র বাগমারা উপজেলায়। সেখানে সাত পদে নেই জনবল।

গোদাগাড়ী উপজেলায় দুইটি পদে জনবল নেই। উপজেলার পবা, মোহনপুর, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে চারটি করে শূন্যপদ দীর্ঘদিন। পাঁচটি পদ এখনো ফাঁকা চারঘাট উপজেলায়। জেলা দফতরেও এই সংকট। এখানে শূন্য রয়েছে চারটি পদ।

এছাড়া প্রতি উপজেলায় একটি করে মিনিল্যাব প্রয়োজন। সেখানে জেলা উপজেলা মিলিয়ে প্রাণির পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি মাইক্রোস্কোপ ছাড়া আর কিছুই নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে প্রাণিসম্পদ দফতরের সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার খামারি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাণিসম্পদ দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, মূলত এই সেক্টরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট চরমে। ফলে জেলার খামারগুলোর বেশিরভাগেই কৃত্রিম প্রজনন, টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা চলে গেছে হাতুড়ে ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডাক্তারের কব্জায়। ব্যয় বাড়ছে খামার ব্যবস্থাপনায়। ভুল পরামর্শেও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন খামারিরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে কাক্সিক্ষত উৎপাদন।