অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ৩:১২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

print
অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ

পাবনার চাটমোহরে অপরিকল্পিতভাবে কিছু সেতু নির্মাণ করা হয়েছে যা মানুষের কোনো প্রয়োজনে আসছে না। যেখানে রাস্তা নেই, সেতু দরকার নেই সেখানেও নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। কোথাও সেতু নির্মাণ করলেও সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি দীর্ঘদিন ধরে। কোথাও ব্রিজে উঠতে হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে।

চাটমোহরে এমন বেশ কয়েকটি সেতু রয়েছে যেগুলো কিছুদিন পূর্বে নির্মিত হয়েছে। কোনো কোনো সেতু মানুষের উপকারে আসার বদলে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। এসব সেতু নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারপাড়া গ্রামের পাশে খলিশাগাড়ি বিল। গ্রাম থেকে এ বিলে যাতায়াতের রাস্তা নেই বললেই চলে। অথচ বিলের শেষ মাথায় কোনো প্রয়োজন না থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। সেতু পার হয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা বা গ্রাম নেই। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে অপ্রয়োজনীয় এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

স্থানীয় ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রামে ও বিলে যাতায়াতের জন্য রাস্তা প্রয়োজন। কিন্তু সেই রাস্তা না করে, সেতু করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এ সেতুটি মানুষের কোনো উপকারেই আসছে না।

উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের সিঙ্গা জোলা রেল সেতুর পাশে খালের ওপর ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একটি সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো উপকারে আসছে না অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় এই সেতুটি। কারণ ব্রিজের আশপাশে নেই যাতায়াতের ভালো রাস্তা।

নদীর পাড়ে খালের ওপর সেতুটি নির্মাণের কোনো প্রয়োজন ছিল না বলে জানান এলাকাবাসী। পাশাপাশি নিমাইচড়া গ্রামে সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের বেহাল দশায় কষ্ট বেড়েছে মানুষের।

এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি চাটমোহর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামীম এহসান।

ইউএনও সৈকত ইসলাম জানান, অপ্রয়োজনীয় সেতুর বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব সেতুর রাস্তা নেই সেগুলো রাস্তা করে না দেওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারের বিল দেওয়া হচ্ছে না।