মিটারগেজ রেলপথে বদলে যাবে রাজশাহীর অর্থনীতি

ঢাকা, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

মিটারগেজ রেলপথে বদলে যাবে রাজশাহীর অর্থনীতি

মাসুদ রানা রাব্বানী ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

print
মিটারগেজ রেলপথে বদলে যাবে রাজশাহীর অর্থনীতি

রেলপথে ভ্রমণ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। পণ্য পরিবহণেও সড়ক পথের চেয়ে রেলপথ সাশ্রয়ী বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। তবে মিশ্র গেজ রেলপথ না থাকায় মিটার গেজে চলা ট্রেন রাজশাহীতে আসতে পারে না। ফলে সারা দেশের সঙ্গে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত।

এদিকে ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিটারগেজ রেলপথের সুবিধা থাকলে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি রাজশাহীতে কন্টেনারে পণ্য আনা-নেয়া করা সম্ভব হতো। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুল করিম জানান, মিশ্রগেজ রেলপথ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভালো হবে। এছাড়া ভারতের সাথে পণ্য আমদানি-রফতানি সহজ হবে। এতে করে কমবে পরিবহণ খরচও।

জানা গেছে, দেশের প্রায় সর্বত্র মিশ্র গেজ রেলপথ চালু আছে।

শুধু পশ্চিম রেলওয়ের নাটোরের আব্দুলপুর পর্যন্ত ব্রডগেজ ও মিটারগেজ রেললাইন রয়েছে। আব্দুলপুরের পরে রাজশাহী ও জেলা শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত ব্রডগেজ থাকলেও নেই মিটারগেজ লাইন। তাই এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য ও আম পরিবহনে উচ্চ ভাড়ায় কুরিয়ারে ধর্না দিতে হয়।

মিটারগেজ রেললাইন হলে রাজশাহী-চট্টগ্রামের মধ্যে ব্যবসায়ী যোগাযোগ সহজ হবে। এছাড়া নাটোরের আব্দুলপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত ১৫টি স্টেশন মিলে ১০৪ কিলোমিটার পথ।

আব্দুলপুর থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত সাতটি স্টেশন মিলে ৪২ কিলোমিটার পথ। এই পথের স্টেশনগুলোর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, হরিয়ান, সরদহ, নন্দনগাছী, আড়ানী ও আব্দুলপুর। রাজশাহী স্টেশন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার। আর রাজশাহী থেকে রহনপুর পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার।

রাজশাহী ও রহনপুরের পথে আটটি স্টেশন। এগুলো হলো- কোর্ট স্টেশন, শীতলাই, কাঁকনহাট, ললিতনগর, আমনুরা, আমনুরা বাইপাস, নিজামপুর ও নাচোল স্টেশন রয়েছে। এই পথটুকুতে মিশ্র রেললাইন স্থাপন করা গেলে এ দুই জেলায় বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রফতানি আরও সহজ হবে। এতে একদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে, অন্যদিকে সময় ও পরিবহন খরচ দুই কমবে।

রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা জানায়, রাজশাহীতে শুধু মিটারগেজ রেললাইন না থাকায় পরিবহন খরচ বেশি হয়। মিটারগেজ লাইন চালু হলে বিভাগীয় এই শহরের ওপর দিয়ে নবাবগঞ্জের রহনপুর রুটেও পণ্য পরিবহন সহজ হবে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক তৌরিদ আল মাসুদ রনি জানান, রাজশাহীতে শিল্প প্রতিষ্ঠার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। যোগাযোগ ভালো করা গেলে ট্রান্সপোর্ট খুব সহজ ও সুলভ হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী চাঁপাইয়ে প্রচুর আম ও সবজি উৎপাদন হয়। সেগুলো ট্রাকে বিভিন্ন বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক সময় পরিবহন বন্ধ থাকলে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন ব্যবসায়ীরা। আর মিশ্র রেলপথ স্থাপন করা গেলে রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতি পালটে যাবে।