বদলগাছীতে নকল কীটনাশকে সয়লাব বাজার

ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ | ২ মাঘ ১৪২৭

বদলগাছীতে নকল কীটনাশকে সয়লাব বাজার

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ৯:১৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০২০

print
বদলগাছীতে নকল কীটনাশকে সয়লাব বাজার

নওগাঁত বদলগাছীতে ভেজাল কীটনাশকে বাজার সয়লাব বেকায়দায় পড়েছে কৃষকেরা। না বুঝে এসব ভেজাল কীটনাশক ব্যবহার করে উপকারের পরিবর্তে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকেরা। ধান-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলে পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করলে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু দোকান থেকে কেনা কীটনাশক দিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না। একদিকে যেমন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে অপরদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন উপজেলার কৃষকরা।

জানা গেছে, ইনতেফা কোম্পানীর ‘বাতির’ নামক কীটনাশক কোম্পানির নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করে থাকে। কোম্পানির নির্ধারিত দোকানগুলোতে এ কীটনাশক না থাকলেও হুবহু লেবেল লাগানো বোতল বা পাকেট বাহিরের সর্বত্র দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। না বুঝে কৃষকরা সেই সব কীটনাশক চড়া মূল্যে কিনে পোকা দমনের জন্য স্প্রে করছেন তা দিয়ে কিছুতেই পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোম্পানির বিরুদ্ধে তাদের বিভিন্ন অভিযোগ।

বোতল বা প্যাকেটের গায়ে মনোগ্রাম বা লেবেল দেখে বোঝার কোন উপায় নেই এটা নকল নাকি আসল কীটনাশক। কৃষকরা না বুঝে ওই নকল কীটনাশক কিনে প্রতারিত হতে হচ্ছে। নকল কীটনাশক বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন উপজেলার কৃষকরা। তারা মনে করেন উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তা না হলে আমরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হয়ে দিনদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। 

উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, যত্রতত্র ভাবে লাইসেন্স বিহীন গড়ে উঠেছে কীটনাশকের দোকান। এমন কি মুদির দোকানেও বিক্রি হচ্ছে কীটনাশক।

বদলগাছী বাজারে অবস্থিত ফারুক কীটনাশক দোকানের মালিক শিপলু হোসেন বলেন, আমাদের কাছেও অনেক কৃষক এধরনের অভিযোগ নিয়ে আসছে।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহার আলী বলেন, আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে কীটনাশক আসল না নকল সেটা বলতে পারব না এগুলো কোম্পানির ব্যাপার।

উনাক কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার গোলাম রসুল বলেন, কৃষকরা নিয়ম মেনে প্রয়োগ না করার কারনে সমস্যা হতে পারে।

উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কেশাইল গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, পাঁড়োরা গ্রামের আব্দুল বারীক, চাংলা গ্রামের পলাশ হোসেন বলেন, দুই বছর আগে যে কীটনাশকের দাম ছিল দুইশ টাকা সেটি এখন ৩৫০টাকা কিন্তু আগের মত কাজও হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, অনেক সময় ঔষধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এ সমস্যা হয়। ইউএনও আবু তাহির বলেন, জরুরী ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল কীটনাশক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।