নিয়ামতপুরে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১১ মাঘ ১৪২৭

নিয়ামতপুরে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

শাহজাহান শাজু, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) ৭:১৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০২০

print
নিয়ামতপুরে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

নিয়ামতপুরে উর্বর কৃষিজমির মাটি চড়া মূল্যে বিক্রি হয়ে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এতে করে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ওই জমির পাশর্^বর্তী কৃষিজমি ও এর মালিকরা।

এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ হলেও এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে মাটিকাটা উৎসব চলছে ভাবিচা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায়। আর এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয় ইউএনও জয়া মারীয়া পেরেরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, কৌশলে চড়া মূল্যে সহজ-সরল কৃষকদের ভুলিয়ে চলছে এ মাটি কেনা-বেচার বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, এ মাটি ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ভাটার মালিকরাও। মূলত ভাটার মালিকরাই ইন্দোন যোগাচ্ছেন মাটি ব্যবসায়ীদের নিরীহ কৃষকের নিকট থেকে মাটি কেনাতে।

লোভে পড়ে কৃষকরাও বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন ফসলি জমির উর্বর মাটি। এতে ওই জমি নিচু হয়ে ক্ষতি হচ্ছে পাশ্ববর্তী জমির। প্রতিদিন ভাবিচা ইউনিয়নের ভাতকুন্ড, সন্তোষ, কুমিরজোল, রাউতাড়া ও ডিমাসহ বিভিন্ন মৌজায় সমতল কৃষি জমিতে চলছে এ মাটি কাটার উৎসব।

এসকেভেটর মেশিনে মাটি কেটে ট্রাকে করে সেই মাটি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে গত ২২ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দাখিল করেন এক ব্যক্তি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আনিসুরের নেতৃত্বেই হচ্ছে এ কৃষি মাটি কেনা-বেচার বাণিজ্য। তিনি বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন তার মাটির ব্যবসা। তার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন আরোও কয়েকজন। এদের দৌরাত্মে কিছু বলারও ক্ষমতা নেই কারো। মাটি কাটায় জমি নিচু হয়ে চরম ক্ষতিতে পড়ছে অন্য ফসলী জমি ও জমির মালিকরা। অনুর্বর হয়ে পড়ছে আশপাশের জমি।

ফসলী জমির মাটি বিক্রিকারী কৃষক ভাতকুন্ড গ্রামের কারী ময়নুদ্দীন জানান, তিনি উচুঁ জমি সমান করার জন্য প্রায় এক বিঘা মাটি কেটে বাসের আলী খানের ইট ভাটায় দিয়েছেন। এতে করে তাকে কোন প্রকার মূল্য পরিশোধ করতে হয়নি। মাটির বিনিময়ে তিনি বিনামূল্যে কাজটি করে পেয়েছেন বলেন।

ভাবিচা ইউপি চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক জানান, একটি চক্র এ মাটি কেনার ব্যবসায় জড়িত। তাদের দৌরাত্ম ঠেকাতে প্রশানকেও অবহিত করা হয়েছে বিষয়টি। তারপরও তাদের মাটি কাটার উৎসব অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছে।