পাবনা সুগার মিল বন্ধ ঘোষণা, দফায় দফায় বিক্ষোভ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ ১৪২৭

পাবনা সুগার মিল বন্ধ ঘোষণা, দফায় দফায় বিক্ষোভ

শমিত জামান, পাবনা ৬:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০২০

print
পাবনা সুগার মিল বন্ধ ঘোষণা, দফায় দফায় বিক্ষোভ

পাবনা সুগার মিল আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২ ডিসেম্বর) পাবনা সুগার মিলের এমডি সাইফুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পাবনা সুগার মিলসহ ৬টি চিনি কল বন্ধ ঘোষণা করে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

এদিকে মিল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। এ সময় শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষীরা ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১৬৬নং স্মারকের এক চিঠিতে বলা হয় চিনি আহরনের হার, আখের জমি, মিলের অবস্থাপনা /দাতা, লোকসান ও রক্ষনাবেকক্ষনের ব্যয় বিবেচনায় চলতি আখ মাড়াই মৌসুমে দেশের ১৫টি চিনি কলের মধ্যে অধিকতর বিবেচনায় ৯টি চিনিকলের উৎপাদন পরিচালনা করা এবং অবশিষ্ট ৬টি কলে আখ মাড়াই না করার প্রস্তাব করা হলো।

আখ মাড়াই না করা চিনি কলগুলোর মধ্যে রয়েছে- পাবনা সুগার মিল, কুষ্টিয়া সুগার মিল, শ্যামপুর সুগার মিল, পঞ্চগড় সুগার মিল ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল।

চিঠিতে আরও বলা হয়, যে সব মিলে চলতি মৌসুমে আখ মাড়াই করা হবে না সে সকল এলাকায় উৎপাদিত আখ উৎপাদনশীল নিকটস্থ চিনিকলে নিয়ে যাওয়া হবে। উৎপাদন স্থগিত মিল হতে কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীকে চালুকৃত মিলে বদলি/সংযুক্ত পূর্বক সমন্বয় করা হবে।

এদিকে পাবনা সুগার মিল বন্ধের প্রতিবাদে বুধবার সকালে বিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মিলগেটে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি হয়। এতে পুলিশের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ভাবে কর্মসুচী চালানো আহবান জানানো হলে তারা গেটে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

এ সময় মিল চালু রাখার দাবি নিয়ে বক্তব্য রাখেন শ্রমিকলীগ আঞ্চলিক শাখার সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন, পাবনা চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্বলসহ প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন আখচাষী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলী বাদশা। বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা বলেন, পাবনা সুগার মিলসহ ৬টি চিনিকল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্পোরেশন থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি কিছুদিন আগে শিল্পমন্ত্রাণালয়ে দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রাণালয় এতে সম্মতি দিয়ে ৬টি চিনিকল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

পাবনা সুগার মিল ক্রমাগত লোকসানের কারণে বন্ধ হতে যাচ্ছে এমন কথা বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল। মিলটি জন্ম লগ্ন থেকেই ঋণ ও ঋণের সুদসহ বিভিন্ন লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে এতদিন চালু ছিল।