ইঁদুরের গর্তে আইমনার ভাগ্য

ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

ইঁদুরের গর্তে আইমনার ভাগ্য

মিজান মাহী, দুর্গাপুর (রাজশাহী) ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০২০

print
ইঁদুরের গর্তে আইমনার ভাগ্য

স্বামী নেই। একমাত্র ছেলেও ছেড়ে গেছেন তাকে। চোখের নদী শুকিয়ে যাওয়া হতদরিদ্র বিধবা আইমনার তাই এখন একার সংসার। থাকেন রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর এলাকার শালঘরিয়া গ্রামে। ইঁদুরের গর্ত থেকে সংগ্রহ করেন ধান। তাতেই টেনেটুনে পার করেন বছরের প্রায় অর্ধেক সময়। প্রতি বছর রোপা আমন ধান কাটা শেষ হতেই লেগে পড়েন ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান কুড়াতে। যে গর্তে প্রতিনিয়ত থাকে সাপপোকের ভয়। কিন্তু পেটের জ্বালা সে ভয় তুচ্ছ হয়ে ওঠে। রাতের আঁধার জ্যোতি ছড়ায় তার কাজে।

আইমনা বেওয়ার কাজ এখন শুরু। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে রোপা-আমন কাটছে কৃষক। কাটা ধান শুকানো হচ্ছে রোদে। ধানসহ খড় শুকিয়ে গেলে জমি থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে ঘরে। এখন আর তাই আইমনার বসে থাকার সময় নেই। আগামী ছয় মাসের খোড়াক গুছিয়ে তুলতে হবে ঘরে। আর সে খোড়াক গোছাতে হবে ইঁদুরের গর্ত থেকেই। খুন্তি-কোদাল, চালন, ডালা, বস্তা নিয়ে রাতের আঁধার ছিঁড়ে ছুটছেন মাঠ থেকে মাঠে। খুঁজে ফিরছেন ইঁদুরের গর্ত।

আইমনা জানান, চাল কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই তার। স্বামী গত হয়েছেন অনেক আগেই। ছেলেও দেখে না তাকে। থাকেন আলাদা। তাই এই মৌসুমে প্রতি বছর ইঁদুরের গর্ত থেকেই ধান সংগ্রহ করে তা থেকে চাল তৈরি করে বছরের অর্ধেকটা কোনোমতে চলেন। আর এই সময়ে বাকি সময়ের জন্য নানা কাজ করে জমাতে থাকেন টাকা। সেই টাকাতে কষ্টেসিষ্টে চলেন বাকি ছয় মাস। ইঁদুরের গর্তে সাপপোকের ভয় সম্বন্ধে জানতে চাইলে আইমনা বেওয়া জানান, পেটের খিদেই সব ভয় উড়ে যায় তার।

ভবিষ্যতের খিদের চিন্তা তাকে এ কাজে উৎসাহ দেয়। তাই ভয়কে জয় করেই সংগ্রহ করেন ধান।
দুর্গাপুর পৌর এলাকার কৃষক আব্বাস উদ্দিন জানান, ধান কাটার পর মাটিতে পড়ে থাকা ধান অনেকেই সংগ্রহ করেন। ইঁদুরের গর্ত থেকেও সংগ্রহ করেন। এতে আমরা বাধা দিই না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, খেতে এভাবে ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ করা ঝঁকিপূর্ণ কাজ। ইঁদুরের গর্তে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড় থাকতে পারে।