দুই বছরেও হয়নি তদন্ত

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

সাংবাদিক হৃদয়ের ওপর ছাত্রলীগ নেতার হামলা

দুই বছরেও হয়নি তদন্ত

রাবি প্রতিনিধি ৬:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০

print
দুই বছরেও হয়নি তদন্ত

সাংবাদিক আলী ইউনুস হৃদয়ের ওপর ছাত্রলীগ নেতার হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগের দুই বছরেও তদন্ত করেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। প্রশাসন বলছে, দুই বছর আগের ঘটনার কথা এখন মনে নেই। ঘটনাটিতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সাংবাদিকদের সমঝোতা হয়েছিলো। তাই কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তবে ঘটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের কখনও সমঝোতা হয়নি বলে জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আরাফাত রহমান। তিনি বলেন, মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগের সঙ্গে সাংবাদিকদের কখনও সমঝোতা হয়নি, সেটা একটা বোঝাপড়ার মধ্যে ছিল। সে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এর আগে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক খোলা কাগজের তৎকালীন রাবি প্রতিনিধি আলী ইউনুস হৃদয়ের ওপর ২০১৮ সালের এই দিনে হামলা চালায় রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুল জামিল সুষ্ময়।

পরের দিন গত রোববার ছাত্রলীগের ওই নেতার বহিষ্কারের দাবিতে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী। এছাড়াও অভিযোগ পত্রের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও জনসংযোগ দপ্তর বরাবর দেন তিনি। সেসময় অভিযোগ পত্র হাতে পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান উপাচার্য এম আবদুস সোবহানের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমি জানি ব্যাপারটা নিয়ে ছাত্রলীগ ও সাংবাদিকরা সমঝোতা করে নিয়েছে। কিভাবে করেছে সেটা জানি না। তাই কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাছাড়া দুই বছর আগের ঘটনা এখন মনে নেই।

ভুক্তভোগী আলী ইউনুস হৃদয় বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাংবাদিক আরাফাত রহমানের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাটি আমাদের সামনে মুখ্য। ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী অন্য একজন শিক্ষার্থীকে আঘাত করলে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা প্রতিবারই মারধরের ঘটনায় প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আশা করি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে।

দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানিয়ে আরাফাত বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি সেটার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশাসন শুধু এ ঘটনাতেই নয় সাংবাদিক নির্যাতন সংক্রান্ত সকল অভিযোগের ক্ষেত্রেই নিশ্চুপ ভূমিকায় ছিল। এ ঘটনাগুলোর মাধ্যমে প্রশাসনের বেখেয়ালি মনোভাব প্রতীয়মান হয়।