জমি দানের ২৬ বছরেও মেলেনি চাকরি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

জমি দানের ২৬ বছরেও মেলেনি চাকরি

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০

print
জমি দানের ২৬ বছরেও মেলেনি চাকরি

এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে। ছেলেরও চাকরি হবে। খুশিতে প্রতিষ্ঠানে নিজের জমি দান করেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন সরদার। তারপর ছেলের চাকরিও হয়েছিল। নিয়োগপত্র নিয়ে কলেজে যোগদানও করেন তিনি। কিন্তু বিধিবাম, ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসায় কলেজের অধ্যক্ষের রোষানলে চাকরি হারাতে হয় শিহাব সরদারকে। 

চাকরি হারানোর ২১ বছর পর সুষ্ঠু বিচারে দাবিতে গত বৃহস্পতিবার ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজের জমিদাতার ছেলে শিহাব সরদার।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, দুর্গাপুরে নওপাড়া মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার সময় আলাউদ্দিন সরদার তার ছেলে শিহাব সরদারকে কলেজের অফিস সহকারী (পিয়ন) পদে চাকরি দেবেন। এ আশায় কলেজে তিনি জমি দান করেন। তখন কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন বেলাল হোসেন শাহ। কলেজের সভাপতি ছিলেন তৎকালীন নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ থান্দার। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসলে কলেজের সভাপতি পদে আব্দুল হামিদ থান্দারকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে ১৭ এপ্রিল ১৯৯৯ সালে শিহাব সরদার ওই কলেজে চাকরির আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন সভাপতি সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তাকে দেওয়া হয়। এরপর রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে ভাইভা দেওয়ার পর শিহাব সরদারকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

পরে শিহাব ১৪ জুন ১৯৯৯ সালে ওই কলেজে যোগদান করে। তার চাকরিকালে কলেজের তৎকালীন কলেজের অধ্যক্ষ বেলাল হোসেন শাহ চাকরি ছেড়ে দেন। নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন বিএনপি নেতা হোসেন আলী শাহ। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ হোসেন শাহ অবিচার করে শিহাব সরদারকে বেতন বিল করে দেননি।

ইউএনও মহসীন মৃধা জানান, অনেক অভিযোগ অফিসিয়ালভাবে জমা পড়েন। এরপর আমার হাতে আসে। আমি এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।