বাগাতিপাড়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

বাগাতিপাড়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

তিতাস (নাটোর) প্রতিনিধি ৫:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

print
বাগাতিপাড়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. এবিএম আলমগীর এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অফিস ব্যবস্থাপনার ব্যাপক বিশৃংখলাসহ পশু স্বাস্থ্যসেবার নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। এছাড়া সরকারি ওষুধ অর্থের বিনিময়ে প্রদানসহ বাজারে জবাইয়ের উদ্দেশে পশুর স্বাস্থ্য সনদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কসাইয়ের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ ও পশু না দেখেই ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করে সনদ প্রদানের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

 

বাগাতিপাড়ার উপজেলার তালিকাভুক্ত কসাই মহসীন আলী অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোন রকম টাকা ছাড়াই পশু সুস্থতার সনদ দিয়ে দিতো। কিন্তু বর্তমানে ডা. আলমগীর আসার পর বিভিন্ন জ্বালা-যন্ত্রনা শুরু করেছে। তিনি টাকা ছাড়া কোন সনদ প্রদান করেন না। দুইশ টাকা থেকে শুরু করে যার কাছে যত বেশি সম্ভব টাকার বিনিময়ে তিনি এই সনদ দিয়ে থাকেন।

দয়ারামপুরের তালিকাভুক্ত কসাই আলতাফ হোসেন জানান, ‘ডা. আলমগীর নিজে অথবা তার সহকর্মীদেরকে মাঠ পর্যায়ে পাঠিয়ে পশু পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই পশু প্রতি দুইশ টাকার বিনিময়ে ছাড়পত্র দিয়ে দেন।’

এদিকে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম আলমগীর অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কসাইরা যদি অফিসে পশু না নিয়ে আসে এবং আমাদেরকে যদি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পশুর সুস্থতার সনদ দিতে হয় তাহলে আমরা কী পকেট থেকে টাকা খরচ করবো।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার করতে গিয়ে অনেক সময় পশুর আক্রমনের শিকার হয়ে আমাদেরকে গুরুতর আহত হতে হয়। এয়াড়াও গোবর বা রক্ত-পুঁজ লেগে আমাদের শরীর নোংরা হয়ে যায়। এর জন্য পরিস্কার পরিচ্ছনতার প্রয়োজনীয় সাবান টিস্যু কেনার টাকা আমাকে কে দেবে।

ডা. আলমগীর আরও বলেন, ‘অনেক সময় আমরা মাঠ পর্যায়ে যেতে না পারলে কসাইদেরকে জবাইয়ের জন্য নির্বাচিত পশুকে হাটিয়ে ভিডিও ধারণ করে আনতে বলি এবং সেই ভিডিও দেখে অনেক সময় সনদ প্রদান করে থাকি। এতে আমারও সুবিধা, কসাইদেরও সুবিধা।’

এমন পরিস্থিতিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বাজারে জবাইকৃত পশুর অধিকাংশরই সুস্থতার তথাকথিত সনদ থাকলেও পশুগুলো প্রকৃতপক্ষে রোগমুক্ত কিনা তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। অর্থের বিনিময়ে সরকারি ওষুধ প্রদান ও অর্থের বিনিময়ে পশু সুস্থতার সনদ প্রদান করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তোভোগীরা।