পাখির কলতানে মুখর রামেক

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পাখির কলতানে মুখর রামেক

জিয়াউল গনি সেলিম ও এমএ আমিন রিংকু, রাজশাহী ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

print
পাখির কলতানে মুখর রামেক

পাখির কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙে রোগী ও তাদের স্বজনদের। ভোরের আলো উঁকি দিতেই খোলা আকাশে ডানা মেলে দেয় ঘুমভাঙানি পাখিরা। খুনসুঁটিতে মেতে ওঠে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল চত্বরের গাছের ডালে ডালে। চোখের সামনে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায় শামুকখোল পাখি। দিনের বার্তা দিতে সবার ঘুম ভাঙিয়ে কোথায় যেন চলে যায়। ফের সন্ধ্যায় ফেরে যার যার নীড়ে। চোখজুড়ানো এমন সব দৃশ্যে রোগীরাও খুশি। অসুস্থতার মধ্যে সুরের ছোঁয়া প্রকৃতির দান মনে করছেন তারা। রামেক চত্বর সব মিলিয়ে এখন পাখিদের অভয়ারণ্য।

সকালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল চত্বরজুড়ে পাখির মেলা। হাসপাতালের ভিতরের গাছপালার চূড়ায় আশ্রয় নিয়েছে পাখি। এদের অধিকাংশই শামুকখোল, পানকৌড়ি ও নিশি বক প্রজাতির পাখি। নানা সুরে চিকন-মোটা কণ্ঠে গাইছে তারা। হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস, ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস ও কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায়ও বেঁধেছে তারা বাসা।

রাজশাহীর ‘সেভ দ্য নেচার অ্যান্ড লাইফ’র প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান জানান, শামুকখোল পাখিগুলো সাত থেকে আট বছর ধরেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় বসবাস করছিল। কিন্তু কারাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় বড় গাছ কেটে ফেলায় এ বছর অনেক পাখি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। তারা দলবদ্ধভাবে এসব এলাকায় বাসা তৈরি করছে।

বাংলাদেশ বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের সভাপতি এসএম ইকবাল বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও রাজশাহী অঞ্চলে খুব বেশি সংখ্যক শামুকখোল চোখে পড়ত না। কিন্তু এখন অনেক পাখি এই এলাকায় বসবাস শুরু করেছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও পর্যাপ্ত খাবারের উৎস থাকায় গত সাত থেকে আট বছর ধরে শামুকখোল পাখি এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছে। পাখি বিশেষজ্ঞ এসএম ইকবাল আরও বলেন, আগে শুধু জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এরা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এদেশে প্রজননের জন্য আসতো। তবে এখন এরা দেশের আবাসিক পাখি হয়ে উঠেছে।

এদিকে হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, পাখিগুলো এখানে বাসা বাঁধলেও তারা নিরাপদ নয়। হাসপাতালের বেশ কিছু স্টাফ ও কর্মচারী সবার অগোচরে পাখি শিকার করে খাচ্ছেন। আবার বাইরে থেকেও অনেকে এসে পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের স্বার্থে পাখিগুলোর সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মো. নওশাদ আলী বলেন, রামেক ক্যাম্পাস চত্বরে পাখি শিকার করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। এখানে বন্দুক নিয়ে কারও প্রবেশ করার প্রশ্নই আসে না। তাহলে কীভাবে পাখি শিকার করছে সে বিষয়টি বোধগম্য নয়। এরপরও বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, পাখিদের সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই তাদের মাথায় রয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এবং স্টাফদের প্রবেশমুখে আনসার সদস্যরা থাকে। তারা এ বিষয়ে খেয়াল রাখছে।