পুঠিয়ার চারআনি রাজবাড়ি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পুঠিয়ার চারআনি রাজবাড়ি

জিয়াউল গনি সেলিম ও এমএ আমিন রিংকু, রাজশাহী ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

print
পুঠিয়ার চারআনি রাজবাড়ি

রাজপ্রথা বিলুপ্তের পর রাজপরিবারের উত্তরাধিকাররা চলে যান ভারতে। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত প্রায় সাড়ে চারশ বছরের পুরনো রাজবাড়িটি। হিসাব মতে, এখন তার নাম উঠার কথা পুরাকীর্তির তালিকায়। কিন্তু মালিকানার দাবিতে মামলা চলতে থাকায় সেখানেও স্থান হয়নি বাড়িটির। খসে খসে পড়ছে ইট। ক্ষয়ে গেছে কোথাও কোথাও। জীর্ণতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুঠিয়ার চারআনি রাজপরগনার রাজবাড়ি। যদিও মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় এখন সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকাভুক্তির চেষ্টা চলছে। তবে প্রক্রিয়ার শ্লথগতি বলে দিচ্ছে কী ঘটতে চলেছে তার ভাগ্যে। অবশ্য এ পুরাকীর্তির সংস্কার হলে বাড়বে পর্যটকদের ভিড় বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

ইতিহাস বলছে, বৎসাচার্যের ছেলে পিতাম্বর ১৫৫০ সালে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন। আর পিতাম্বরের অনুজ নীলাম্বর পুঠিয়া রাজবংশের প্রথম রাজা হন। চতুর্থ ধনপতি চাঁদ সওদাগর থেকে শুরু করে পরেশ নারায়ণ ও নরেশ নারায়ণ বাহাদুর পুঠিয়া রাজবংশ প্রায় ৪০০ বছর শাসন করেন। এরপর ১৯৪৯ সালে রাজপ্রথা বিলুপ্ত হলে রাজ পরগনার উত্তরাধিকারীরা ভারতে চলে যান। এখন পরগনায় রাজা নেই, রাজ্যও নেই। রাজপরগনাজুড়ে আছে তাদের স্মৃতি বিজড়িত পুরাকীর্তিসমূহ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চারআনি রাজবাড়ির বিভিন্ন স্থান ক্ষয়ে গেছে। ধসে পড়েছে কোথাও কোথাও। স্থানীয়দের তথ্য মতে, রাজপ্রথা বিলুপ্তির পর চারআনি রাজবাড়িটি মামলা জটিলতার কারণে একরকম পরিত্যক্তই ছিল। গত কয়েক দশক ধরে পুঠিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস তদারকি করছে।

জানা যায়, চারআনি রাজবাড়ি বাদে পুঠিয়া রাজপরগনার বেশির ভাগ অংশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে। সেগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। আর চারআনি রাজবাড়িটি প্রত্নতত্ত্বের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সেখানে এখনো পর্যন্ত সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ির মূল ফটক সংলগ্ন ভবনের কিছু অংশ ভেঙে গেছে।

লোকনাট্যকার ও গবেষক কাজী সাঈদ হোসেন দুলাল জানান, বারো ভূঁইয়ার ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে এই রাজপরগনায়। পরগনার কয়েকটি স্থান প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর সংরক্ষণ করলেও নানা কারণে চারআনি রাজবাড়িটি এখনো অবহেলিত। কর্তৃপক্ষের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ চারআনি রাজবাড়ি ধ্বংসের শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। মূল ফটক ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। অথচ আগামী প্রজন্মকে রাজপরগনার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের খুব কাছে নিয়ে যেতে এর সংস্কার প্রয়োজন।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই মো. আনাস বলেন, চারআনি রাজপরগনাটি সংরক্ষণের জন্য আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কাছে বলেছিলাম। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এখন এলাকাটি অধিগ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে বগুড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক প্রকৌশলী নাহিদ সুলতান খোলা কাগজকে বলেন, চারআনি রাজবাড়িটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছিলেন এক ব্যক্তি। মামলা থাকায় সরকারের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি তালিকায় উঠেনি। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। কাজেই এখন এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তালিকাভুক্ত হলেই সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।

এদিকে গত শুক্রবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. হান্নান মিয়া পুঠিয়া রাজবাড়ির চারআনি রাজপরগনা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, আরও আগে এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। আমরা সেই উদ্যোগ এখন নিতে যাচ্ছি। সব প্রক্রিয়া শেষ করে রাজবাড়িটি সংরক্ষণ করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য শিগগিরই জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হবে।