নাটোর বিআরটিএ সক্রিয় দালালচক্র

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

নাটোর বিআরটিএ সক্রিয় দালালচক্র

নাজমুল হাসান, নাটোর ৩:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

print
নাটোর বিআরটিএ সক্রিয় দালালচক্র

নাটোর বিআরটিএ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। করোনাভাইরাসের কারণে বেশ কয়েক মাস বন্ধ ছিল বিআরটিএর কার্যক্রম। সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের স্থানীয় অফিসটি ফিরেছে পুরনা চেহারায়। অফিসের ভিতরে এবং বাইরে দালাল চক্রের অপতৎপরতা প্রতিনিয়ত দেখা যায়। নাটোর বিআরটিএ সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, দালালমুক্ত করতে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা চান।

সরেজমিন দেখা যায়, করোনা সতর্কতায় কাউন্টারের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতারা বাইরে থেকে কাগজপত্র জমা দিচ্ছে। কিন্তু সরকারি অফিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার গাড়ির ড্রাইভার নূরুল হক প্রবল প্রতাপে ভিতরে ঢুকে অন্যের লাইসেন্সের কাগজপত্র নিয়ে ব্যস্ত, তাও আবার নিজের অফিস ফাঁকি দিয়ে। এরপর বিআরটিএ অফিস চত্বরে একাধিক লাইসেন্সের কাগজসহ দেখা মিলল দালালচক্রের অন্যতম সদস্য আলামিন হোসেনের। তার কাছে লাইসেন্সের এত কাগজপত্র কেন প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, নিজেদের লোকজনের কাজ করে দিচ্ছেন তিনি। 

হালকা ও ভারী যানবাহনের জন্য সরকার নির্ধারিত লার্নার ফি ৩৪৫ টাকা। এরপর ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদি পেশাদার-অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য যথাক্রমে ১,৬৭৯ ও ২,৫৪২ টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু দালালচক্র লাইসেন্স প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে দালালদের নিয়ে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের মাঝে রয়েছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। একজন দালাল সংক্রান্ত বিষয় অস্বীকার করলেও আরেকজন দিচ্ছেন সরল স্বীকারোক্তি।

মোটরযান পরিদর্শক নেসার আহমেদ জানান, বিআরটিএর বাইরে এবং ভিতরে কোনো দালাল নেই। দালাল বিষয়ে তথ্য প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন।

বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে একাধিক সেবাগ্রহীতা দালাল চক্রের হাত থেকে মুক্তি চেয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, দালাল না ধরলে লাইসেন্স পেতে মাসের পর মাস ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্যদিকে গাড়ির লাইসেন্স না থাকলে জরিমানা গুনতে হয়। তাই দ্রুত লাইসেন্স পেতে দালাল না ধরে উপায় থাকে না।