ভোট বাতিলের দাবি বিএনপি প্রার্থীর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৩ কার্তিক ১৪২৭

পাবনা-৪ উপনির্বাচন

ভোট বাতিলের দাবি বিএনপি প্রার্থীর

পাবনা প্রতিনিধি ৩:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

print
ভোট বাতিলের দাবি বিএনপি প্রার্থীর

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের উপনির্বাচনের ভোট বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার শাহাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।

এর আগে শনিবার সকাল ৯টা থেকে কোনো ধরনের বিরতি ছাড়া ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পাবনায় সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও তা করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জানান, নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে তিনি নিজে প্রার্থী হয়েও ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তার নেতাকর্মীরাও কেন্দ্রে ভোট দিতে যাননি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা হাবিব এই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান। এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার আবদুল লতিফ শেখ জানান, পাবনা-৪ আসনে দুটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮১ হাজার ১১২ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৫ জন। এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তিনজন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নূরুজ্জামান বিশ্বাস (নৌকা), বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব (ধানের শীষ) এবং জাতীয় পার্টির রেজাউল করিম (লাঙ্গল)।

ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৯টি। নির্বাচনের দিন এসব ভোট কেন্দ্রে ২ হাজার ৩০১ জন প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য এর আগে গত ২৩ আগস্ট পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হয় ৩ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল ছিল ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মনোনয়নপত্র বাতিলের আপিল নিষ্পত্তি করা হয় গত ৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ৮ সেপ্টেম্বর। এর পর থেকেই তিন প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু মারা যাওয়ায় পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

গত ২ এপ্রিল তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে ইসি আরও ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন করতে পারবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবারে সেই পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত যাচ্ছে নির্বাচন।