গল্প শোনালেন সোহেল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

নাটোরে ভেড়াটির বেঁচে ফেরা

গল্প শোনালেন সোহেল

নাটোর প্রতিনিধি ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

print
গল্প শোনালেন সোহেল

নাটোর স্টেশনে রুপসা এক্সপ্রেসের নিচে পড়ে বুদ্ধিমত্তায় বেঁচে যায় একটি ভেড়া শাবক। গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেছিলেন বিটিভির স্থানীয় ক্যামেরাপারসন সোহেল রানা। ইতোমধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। গতকাল খোলা কাগজের নাটোর প্রতিনিধি নাজমুল হাসানের কাছে ভিডিওধারণ ও ভাইরাল পরবর্তী অনুভূতি ব্যক্ত করেন তিনি।

সোহেল রানা বলেন, গত বুধবার সকাল থেকেই ট্রেনের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য বিটিভির নাটোর প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন আমাকে সঙ্গে নিয়ে নাটোর স্টেশনে অবস্থান করছিলেন। রিপোর্টের ভিডিও ধারণ করতে সকাল থেকেই ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ ছিলাম।

সকাল ১১টায় একটা ট্রেনের দৃশ্য ধারণ করে পরবর্তী খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর রুপসা এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। স্টেশনে চা খেয়ে এবং জালাল ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিবেদন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলাম। একসময় রুপসা এক্সপ্রেস স্টেশনে প্রবেশ করতে থাকলে দ্রুত ক্যামেরা অন করে ভিডিও ধারণ করতে থাকি। হঠাৎ চোখে পড়ে ট্রেনের সামনে একটা ভেড়া শাবক প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে।

পরিস্থিতি এমন যে, নিজে গিয়ে শাবকটিকে বাঁচাতেও পারব না। তাই অসহায়ভাবে ভিডিও ধারণ করতে থাকি। ট্রেন ভেড়া শাবকটির ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। এ সময় শাবকটির মা পাশের লাইনের উপরে ছোটাছুটি করছিল। এক অজানা আতঙ্কে নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। এরই মধ্যে লক্ষ করলাম ভেড়াটি লাইনের ফাঁকা স্থানের ওপর বসে পড়েছে। পরে ক্যামেরা ঘুরিয়ে সেই দৃশ্য ধারণ করতে থাকি।

মনে কিছুটা স্বস্তি পাই এই ভেবে, এ যাত্রায় হয়তো ভেড়া শাবকটি বেঁচে গেল। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে থাকি যেন নিষ্পাপ প্রাণটি বেঁচে যায়। ট্রেন স্টেশনে থামার পর স্থানীয় একজন ভেড়া শাবকটি ট্রেনের নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনেন। ভেড়াটির বাঁ পায়ে কিছুটা ক্ষত দেখা যায়। আমার রুদ্ধশ্বাসের সমাপ্তি ঘটল। বুকভরে নিঃশ্বাস নিলাম। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরা ভেড়া শাবকটিকে দেখে মুহূর্তেই আনন্দের বন্য বয়ে গেল মনে।

সোহেল রানা বলেন, এরপরের গল্পটা অন্যরকম। আর ১০টা ভিডিওর মতোই স্বাভাবিকভাবে নিয়ে বিষয়টাকে তেমন গুরুত্ব দিইনি। ফুটেজটা বিকালে আমার নিজের টাইমলাইনে আপ করি।

তা দেখে যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি নাজমুল হাসান ভাই আমাকে ফোন করে বিস্তারিত ঘটনা জেনে নেন। আমি তখনো জানি না আমার জন্য কত বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে। খোলা কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় আমার নাম উল্লেখ করে নিউজটি প্রকাশিত হলে শোরগোল পড়ে যায়।

এছাড়া ফুটেজটি যমুনা টেলিভিশনের অনলাইনে আপ হলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। যার ভিউ লাখ ছড়িয়ে যায়। পরে সবাই আমাকে অনুপ্রাণিত করতে থাকে। এখন সবাই ভিডিওটি আমার নামসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপ করছেন। আমার জীবনে এটি একটি বড় পাওয়া।