ভূয়া নিয়োগপত্র, ১২শ কোটি টাকার চেকসহ গ্রেফতার ৩

ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

ভূয়া নিয়োগপত্র, ১২শ কোটি টাকার চেকসহ গ্রেফতার ৩

টি.এম.মামুন, বগুড়া ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০

print
ভূয়া নিয়োগপত্র, ১২শ কোটি টাকার চেকসহ গ্রেফতার ৩

কথায় আছে চোরের দশ দিন, গৃহস্থ্যের একদিন। অবশেষে সেটাই হলো। প্রতারণা করতে করতে চরমে পৌঁছে গেছে, তাকে এবার থামাতে হবে। হয়তো তাই সৃষ্টিকর্তার এমন ঈশারা। বগুড়ার দক্ষ পুলিশ সুপার তার জনবলকে কাজে লাগিয়ে অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন ২ সহযোগিসহ ভয়ঙ্কর প্রতারক সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রাব্বি শাকিল ওরফে ডি জে শাকিলকে। তিনি সিরাজগঞ্জর উপজেলার তাড়াশ উপজেলার খাঁ পাড়ার উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি কাজী গোলাম মোস্তফার ছেলে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে ৩ আসামীর বিরুদ্ধে পৃথক ভাবে ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

বেকারত্ব দূরকরাসহ উদ্যোক্তা তৈরী করতে তিনি দিয়েছেন স্বল্প সুদে লোন করে দেওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা। দক্ষতার সঙ্গে দেশ-বিদেশের ব্যাংক লোন কিংবা সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী সবকিছুই করিয়ে দিতে পারদর্শী শাকিল। বড় প্রতিষ্ঠানের নামে মোটা অংকের ফান্ড লোন কিংবা বিদেশী বিনিয়োগ আনতে বিশ্বের প্রায় ১৫ টিসহ দেশের ৩২টি ব্যাংকের স্বীকৃত ১১৫ টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে তার। ২০ লাখ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোন করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে “ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক লোন সার্ভিস সেন্টার (আইবিএল)” প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসায় বসেছিলেন তিনি। তাড়াশ পৌরসভা সংলগ্ন সুন্দর তার সেই অফিস থেকেই প্রতারণার নেটওয়ার্ক চালু ছিল সারাদেশ জুড়ে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশের আলোচিত প্রতারক সাহেদের চেয়েও ভয়ংকর এই শাকিল।

সম্প্রতি ভূয়া এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ যুব উন্নয়ন অধিদফতর লোন শাখার দইুটি ভুয়া চেকের নকল স্ক্যানকপি তৈরী করেন। সেখানে বানান ভুল করে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ এর পরিবর্তে বানান ‘গনপ্রজাতন্ত্রী’ লেখা হয়। আর সেখানেই ধরা পড়ে তার প্রতারণার বিষয়টি। বিষয়টি তুলে ধরে বগুড়ার ভুক্তভোগী দুই যুবক তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পুলিশের কাছে।

অবশেষে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম এর সার্বিক দিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫ টার দিকে অভিযান শুরু করে বগুড়া সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একটি দল। অভিযানে গ্রেফতার হন ডিজে শাকিল (৩২) এবং তার প্রতিষ্ঠানের আইটি এক্সপার্ট একই উপজেলার কুসুন্দী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে হুমায়ন কবির (২৮) ও ম্যানেজার নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গাড়ীক্ষেত্র গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে হারুন রশিদ সাইফুল (২৬)।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আসলাম আলী জানান, অভিযানকালে ডি জে শাকিলের সুসজ্জিত অফিস কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ১২০১ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভুয়া চেক, সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বিভাগসহ সরকারী একাধিক প্রতিষ্ঠারে ভুয়া নিয়োগপত্র ও চুক্তিনামা, টাকার অংক না লেখা ৫০টিরও অধিক গ্রাহকদের স্বাক্ষর করা চেক, জাল স্ট্যাম্প ও ডেমি পেপার, বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির ৬০টি সিম কার্ড, শাকিলের পরিচালিত ২২টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের তথ্য এবং সাংবাদিক পরিচয়ের আইডি কার্ড, দেশের সুনামধন্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভুয়া নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১২টি ফেসবুক আইডি, ৩৫টি ফেসবুক পেইজ, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সিলসহ চিঠি তৈরির ফরমেট এর ২ টেরাবাইটের হার্ডডিস্ক, প্রিন্টারসহ ৩টি সিপিইউ ও ৩টি মনিটর এবং পূবালী ব্যাংকের সচল ৭ টি ব্যাংক একাউন্ট এর কাগজ।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বার জানিয়েছেন, বগুড়ার ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থ দুই যুবকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বগুড়া সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত ডি জে শাকিল তার কৃতকর্মের জন্য ভূল স্বীকার করে বলেন, প্রতারণা করে নেওয়া এসব টাকা বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্যে লাগিয়েছেন তিনি।