বগুড়ায় ইউএনও-চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশন মুখোমুখি

ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

বগুড়ায় ইউএনও-চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশন মুখোমুখি

টিএম মামুন, বগুড়া ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০২০

print
বগুড়ায় ইউএনও-চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশন মুখোমুখি

বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। অভিযোগ উল্লেখ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগও করেন তারা। লিখিত অভিযোগের অনুলিপি একই মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসআই)’র পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং বগুড়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যানরা ইউএনও রাসেল মিয়ার অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেছেন।

এদিকে সারিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারী চেয়ারম্যানদের অনৈতিক দাবিতে সহযোগিতা না করাতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। অসত্য, মিথ্যা ও ভুল তথ্য প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। যাতে করে, তাদের দুর্নীতি ও বেআইনি কাজে আমি সহযোগিতা করি। কিন্তু সুস্থ ও জীবিত থাকাবস্থায় চেয়ারম্যানদের ভয়ে ভীত হয়ে কখনই দুর্নীতি করবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন ইউএনও। তাছাড়া অভিযোগে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, যারা হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি এবং পুলিশের দৃষ্টিতে পলাতক।

ইউএনও’র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে বলা হয়- জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করে একক সিদ্ধান্তে কাজ করা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ উপার্জন, এলজিএসপি প্রকল্পে ঘুষ নেওয়াসহ ৮টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সারিয়াকান্দী উপজেলার হাটফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ারুত তারিক মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া যোগদান করার পর থেকে নানারকম অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। সদ্য প্রয়াত সংশ্লিষ্ট বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ইউএনও’র অনিয়ম ও ধৃষ্ঠতাপূর্ণ আচরণের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও তৎকালীন বগুড়া জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।

তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আব্দুল মান্নানের মৃত্যুর পর ইউএনও আরও বেপরোয়া ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেন। করোনা মহামারি শুরুর গত ৪ মাসে উপজেলা পরিষদের কোনও সভা হয়নি। পরিষদের কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই ইউএনও এডিপি ও রাজস্ব খাতের টাকা নামে-বেনামে পিআইসি ও কোটেশন আহ্বান করে নিজের লোকদের দিয়ে ঠিকাদারির নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করে একক সিদ্ধান্তে কাজ করে যাচ্ছেন ইউএনও। এভাবেই চলছে কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের আকন্দপাড়ায় গুচ্ছগ্রাম ও কাজলা ইউনিয়নের পাকেরদহ গুচ্ছগ্রামের কাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ড শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে সারিয়াকান্দীতে যমুনা ও বাঙালি নদীর তীর রক্ষায় কাজ করছে। সেখানে ইউএনও’র যোগসাজশে স্থানীয় বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নদী তীর রক্ষার কাজ ঝুঁকিপূর্ণ করছেন। এখান থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউএনও। প্রতিবাদ করলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ চেয়ারম্যানদের বরখাস্তের ভয় দেখান।

চন্দনবাইশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন দুলাল বলেন, নানারকম অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা ইউএনও রাসেল মিয়ার অপসারণ করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তার কৃতকর্মের বিচার হোক। আমরা এ বিষয়ে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একযোগে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

সারিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া জানান, ইউনিয়ন পরিষদের অনেক চেয়ারম্যান ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গাছ কর্তন, পরীক্ষা চলাকালে প্রাইভেট পড়ানোসহ নানা অপকর্মে জড়িত। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এমন অসত্য ও মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। সঠিক তদন্ত হলে অবশ্যই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) উজ্জল কুমার ঘোষ জানান, জানামতে, ইউএনও রাসেল মিয়া ভাল, দক্ষ এবং পরিশ্রমী অফিসার। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি জেলা প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।