সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ি ফিরছে বানভাসীরা

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ি ফিরছে বানভাসীরা

এইচ এম আলমগীর কবির,সিরাজগঞ্জ ১:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০২০

print
সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ি ফিরছে বানভাসীরা

১০ দিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করেছে। বন্যার পরিস্থিতির উন্নতি দেখে বাঁধের উপরে আশ্রিত গরু-ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে বন্যাকবলিত শতাধিক পরিবার। তবে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি-ঘর ঠিকঠাক করে বসবাস উপযোগী করতে অনেক সময় লাগবে তাদের। বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এখনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, উঁচু স্থান ও স্কুল ঘরে আশ্রিত বানভাসি মানুষ এবং বন্যা কবলিত এলাকার বসতবাড়িতে থাকা পানিবন্দী মানুষদের শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিস্কাশন সমস্যা ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পানি কমার সাথে সাথে নানা দুর্ভোগের মধ্যেও আরও ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পোহাচ্ছেন যমুনা পাড়ের মানুষেরা। বন্যায় যমুনা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কৃষকের পাট, তিল, আখ, বাদাম, ভুট্টা ও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ফসলের খেত পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে যাওয়ায় ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকেরা।

এবিষয়ে কাওয়াকোলা কাটাঙ্গা চরের কৃষক জানান, দীর্ঘদিন বাড়ীতে পানি থাকায় ওয়াবদাতে আশ্রয় নিয়ে ছিলাম। পানি কমতে শুরু করেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ী যাচ্ছি।

সদরের রানীগ্রাম এলাকার পানি বন্দি আফসার আলী বলেন, পানি ওঠার পর থেকে বাড়ী ছেড়ে ওয়াবদাতে আশ্রয় নিয়ে ছিলাম। পানি বাড়ী থেকে নামতে শুরু করেছে।তাই বাড়ীতে যাওয়ার চিন্তা করছি। তবে বন্যার পানিতে বাড়ীর বেহাল অবস্থা। সংস্কার করতে অনেক সময় লাগবে বলে তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি কমে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ২৬ ও কাজিপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। যমুনা নদীসহ সকল নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাছাড়া বৃষ্টিপাত কমায় পানিও দ্রæত নামছে শুরু করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, বন্যায় সিরাজগঞ্জে পাঁচ উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নের ২১৬টি গ্রামের এক লাখ ৫৯ হাজার ১৫৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৩০টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ এবং পাঁচটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ২২০টি ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১০৬০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৬৮৪ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় রয়েছে। এরই মধ্যে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ১২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুল হক জানান, জেলার বন্যা কবলিত পাঁচটি উপজেলার ১১ হাজার ১৭ হেক্টর জমির পাট, তিল ও আখ পানিতে ডুবে ক্ষতি হয়েছে।

ক্যাপশন: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী এলাকা থেকে তোলা ছবি।