চড়ুইয়ের কলতানে মুখরিত ঠাকুরগাঁও

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

চড়ুইয়ের কলতানে মুখরিত ঠাকুরগাঁও

হাসান বাপ্পি, ঠাকুরগাঁও ৬:১২ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৩, ২০২০

print
চড়ুইয়ের কলতানে মুখরিত ঠাকুরগাঁও

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের আর সব জায়গার মতোই স্থবির ঠাকুরগাঁও। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থান বাসস্ট্যান্ড এলাকা। এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ এলাকা এখন একেবারেই ফাঁকা। বাস-ট্রাক বা জনসাধারণের কোলাহলের শব্দ না থাকলেও পুরো এলাকাটিই মুখরিত হয়ে আছে হাজারো চড়–ই পাখির কলতানে।

করোনা পরিস্থিতির আগেও ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের শব্দ ও কোলাহলের মাঝেও শোনা যেত পাখির কিচিরমিচির শব্দ। তবে তা ম্লান হয়ে যেত গাড়ির শব্দ ও কোলাহলে। এখন নীরব পরিবেশে চড়ুই পাখির গান মিষ্টি আবহ তৈরি করে। 

কথা হচ্ছে, গেছো চড়–ই বা ঊঁৎধংরধহ ঞৎবব ঝঢ়ধৎৎড়ি (ইউরেশিয়ান ট্রি স্পেরো) কে নিয়ে। এ পাখির মাথার দিকে না তাকালে আমরা আমাদের বাড়িতে বাসকরা পাতি চড়–ইয়ের সাথেই এক করে ফেলতে পারি এদের। চেহারা হুবহু পাতি চড়–ই অর্থাৎ আমাদের ঘরের আশপাশে যে চড়ুই বাস করে ওদের মতোই। তবে এদের গালে একটি কালো দাগ বা বিউটি স্পট এর জন্য এদের আলাদা করতে পারা যায়। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা গাছে বসবাস করে। ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে গাছের ডালে এবং বৈদ্যুতিক তারে হাজার হাজার পাখি বসে থাকতে দেখা যায়।
পাখি বিশারদদের মতে, শিকারি ও বাজপাখির অক্রমণ থেকে বাঁচতেই এরা হাজার হাজার সংখ্যায় ঝাঁক বেঁধে চলে। এদের একেকটি ঝাঁকে ২০ হাজার পর্যন্ত সদস্য থাকে। ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলেই দেখা মিলবে এদের।

মাহাবুব হোসেন নামের বাসস্ট্যান্ড এলাকার এক পান দোকানদার জানান, সকালে এসে দোকান খুলি। লোকজন আর আগের মতো আসে না। মন খারাপ থাকলেও কাজের ফাঁকে ফাঁকে সারাটা দিন গেছো চড়–ইয়ের কিচিরমিচির করে খেলা ও মারামারি দেখি। ভালই লাগে। সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরি তখন অবশ্য তারা আর বিদ্যুতের তারে থাকে না। রাস্তার ধারের গাছগুলোতে আশ্রয় নেয়।

প্রবাল চৌধুরী নামের এক পথচারী জানান, চড়ুই পাখি আমি দেখেছি তবে এভাবে হাজারো পাখি দল বেঁধে বিদ্যুতের তারে বসে থাকতে দেখিনি। এ ধরনের পাখি হয়তো অন্য সাধারণ চড়ুই পাখিদের মতো না। তবে যেটাই হোক, তাদের দেখতে ভালোই লাগে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পাখিপ্রেমিক রেজাউল হাফিজ রাহী বলেন, এসব গেছো চড়ুই বা ঞৎবব ঝঢ়ধৎৎড়ি জনবসতির মধ্যে থাকতে অনেক বেশি ভালোবাসে। আমাদের এ অঞ্চলেই এদের বেশি দেখা যায়। যেহেতু এই পাখিগুলো জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে। কেউ যেন এদের শিকার করতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।